Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.

Showing posts with label শিশুর স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label শিশুর স্বাস্থ্য. Show all posts

মা-বাবার রক্তের গ্রুপ একই হলে সন্তান জন্মে কোনো সমস্যা হয় কী?


প্রশ্ন: মা-বাবার রক্তের গ্রুপ একই হলে সন্তান জন্মে কোনো সমস্যা হয় কী?

উত্তর: অনেকেরই ধারণা যে মা-বাবার রক্তের গ্রুপ এক হলে সন্তানের নানা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আসলে ধারণাটি অমূলক। তবে মায়ের নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ ও বাবার পজিটিভ গ্রুপ থাকলে অনেক সময় শিশু বাবার গ্রুপ পায় এবং এ কারণে সমস্যা হতে পারে। আবার মায়ের ও পজিটিভ কিন্তু শিশুর এবি বা বি পজিটিভ হলেও জন্ডিস বা অন্য কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অধ্যাপক তাহমীনা বেগম
শিশুরোগ বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল

শিশুদের হঠাৎ করে হাত ধরে টানবেন না


রাতুলের বয়স তিন বছর। দুষ্টুমি, লাফালাফি কোনটাই বাদ নেই। বাবার হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে হঠাৎ একটা রিক্সা আসাতে বাবা রাতুলের হাত ধরে টান দিয়ে সরিয়ে নেয়। রাতুল কান্নায় চিৎকার দিয়ে ওঠে। বাবাকে বলে ব্যথা ব্যথা। বাবা মা অস্থির হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় রাতুলের ডান হাত নাড়াতে পাচ্ছে না, ধরলেই ব্যথা বলে চিৎকার দিচ্ছে,। এলবো জয়েন্ট কোন ভাবে কাজ করছে না। রাতুলের হাতের এই অবস্থাকে বলে পুলড্‌ এলবো (Pulled Elbow)

কি হয়ঃ 
পুল্‌ড্‌ এলবো হচ্ছে হাতের রেডিয়াস নামক হাড়ের উপরিভাগে যাকে বলে রেডিয়াল হেড এনিউলার লিগামেন্ট থেকে সরে যায় অর্থাৎ ডিষ্টাল ডিসলোকেশন হয়। ফলে ব্যথা ও হাতের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। কেননা শিশুদের হাতের জয়েন্টে লিগামেন্ট এবং হাড় অপরিপক্ক থাকে ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এক্স-রে করলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। আর কোন পরীক্ষারও প্রয়োজন নেই। এরকম অবস্থায় অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অভিজ্ঞ হাঁড়ের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।
চিকিৎসাঃ শিশুকে ব্যথা মুক্ত শান্ত রাখতে হবে। হাত নড়াচড়া না করাই ভাল। প্রয়োজনে শান্ত রাখার জন্য এ্যান্টিহিষ্টামিন এবং ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বা আইব্রফেন বাজারে প্রোফেন বা ইনফ্লেম নামে পাওয়া যায় বয়স বা ওজন হিসেবে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াবেন।
যা করা হয়ঃ
হাতকে সুন্দরভাবে ধরে রিডাকশন করতে হবে। অজ্ঞান করাতে হবে না বা কোন ইনজেকশনও দিতে হবে না অবশ করাতে। শুধু এলবো জয়েন্ট (হাতের মাঝে) এক হাত দিয়ে ধরে আর এক হাতে শিশুর হাতের সামনের দিকে ধরে একটু টান দিতে হবে এবং একদিকে বাকা করতে হবে (সুপাইনেট)। এর পর একটু করে আস্তে উপরের দিকে চাপ দিতে হবে এলবো জয়েন্টের দিকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতটি আগের পজিশনে চলে আসবে। একটু কাঁদলেও যাদুর মত কাজ করবে এ চিকিৎসা। সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হবে সোনামনি।
সুতরাং খেলার ছলেই হোক বা যে কোন কারণেই হোক আপনার সন্তানকে হাত ধরে হঠাৎ টানবেন না। অনেকে হাত ধর সোনমনিদের দোল দেয়, টান দিয়ে উপরে ওঠায়, ঘাড়ে নেয়। এটা না করাই উচিত। খেলার কারণে বা হঠাৎ হাতে টান পড়ার কারণে আপনার সোনামনি যেন ব্যাথা না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

বাল্য ও কৈশোরে পুষ্টি


বাল্য ও কৈশোর এ দুটো সময়ই শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। জন্মের পর থেকেই ছোট শিশুটির যে দ্রুত বর্ধন প্রক্রিয়া আমরা দেখি তা ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। সুতরাং এ সময়টাতে শিশুর দেহে পুষ্টির চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশি থাকে। এ সময়টাতে মানসিক বিকাশ পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না যার ফলে সে এ বয়সটাতে নিজেকে নিয়ে খুব একটা সচেতন থাকে না এবং সে তার শরীরের নূন্যতম পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে ব্যার্থ হয়। যার ফলে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়, নানারকম সংক্রামক রোগের শিকার হয় এবং অনেক সময় তাকে সমস্ত জীবনই রুগ্ন ও দুর্বল দেহের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।
এক্ষেত্রে শিশুর চেয়ে মা-বাবার দায়িত্ব বেশি। তাদের এ বয়সী শিশুদের খাদ্যের ব্যপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
মেয়েদের ১১-১৩ বছর এবং ছেলেদের ১৩-১৫ বছর বয়সে বৃদ্ধি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হয়। দেহের পুষ্টির চাহিদা সকল শিশুর ক্ষেত্রে একরকম নয়। ছেলে-মেয়েভেদে, বয়সভেদে অনেক সময় একই বয়সের হলেও আকৃতিগত পার্থক্যের দরুন পুষ্টি চাহিদা কমবেশি হতে পারে। যার দেহের বৃদ্ধি যত দ্রুত হয় তার খাদ্যের চাহিদা তত বেশি হয়। খাদ্যের উপর দেহের গঠন ও বৃদ্ধি যে কতখানি নির্ভর করে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাড়ন্ত বয়সী ছেলে-মেয়েদের খাদ্যে অবশ্যই কিছু গুণাবলী থাকতে হবে যা তার সকল চাহিদা পূরণ করে দেহের দ্রুতগঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
০ খাদ্যকে কর্মশক্তি যোগাবার মত ক্যালরিবহুল হতে হবে।
০ ক্ষয়পূরণ ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি পর্যাপ্ত পরিমাণে হতে হবে।
০ যেহেতু এ সময় হাড় ও দাঁতের গঠন হয় এ জন্য এ সময় পর্যাপ্ত খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন ডি সম্পন্ন খাবার দিতে হবে।
আমাদের দেশে এই বয়সী ছেলে-মেয়েরা যে সকল পুষ্টি উপাদানের অভাবে ভোগে তার মধ্যে প্রেটিন, ক্যালসিয়াম, লোহা ও ভিটামিন এ প্রধান। যার প্রধান কারণ দারিদ্র্যতা, খাদ্য চাহিদা সম্পর্কে অজ্ঞতা, খাবারের প্রতি অনিহা। বা অরুচি এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে বেশি সময় কাটায় ফলে যে টিফিন খায় তা যথসামান্য। ১০-১২ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েদের খাদ্যে প্রতিদিন ৩২০ গ্রাম খাদ্যশস্য, ৬০ গ্রাম ডাল, ১০০ গ্রাম ফল, ৫০ গ্রাম দুধ, ২০০ গ্রাম মাছ মাংস ও ১৩০ গ্রাম তেল বা ঘি থাকা প্রয়োজন। খাদ্যে এগুলোর উপাদান এর পরিমাণ কম হলে তা ক্ষতি সাধন করতে পারে।
এ ছাড়া বাচ্চারা খেতে না চাইলে প্রয়োজন বোধে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল দেয়া যেতে পারে তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই বয়সের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মনে রাখবেন, এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের খাদ্যের প্রতি আসক্তি কম থাকে কিন্তু দেহে খাদ্য চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়েও বেশি থাকে।

দুধের এইডস নিরোধক ভূমিকা

জীবনের প্রথম পুষ্টি দুধ। আদর্শ খাদ্য হিসেবে দুধ সর্বজনস্বীকৃত। সম্প্রতি দুধের আরেকটি নতুন গুণের কথা আবিস্কৃত হয়েছে। দুধ এইডসের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। শুধু এইডসের ভাইরাসই নয়- গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ইত্যাদি ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধেও কাজ করে। গবেষকরা বলেন, দুধে আছে ‘মনোক্যাপ্রিন’ নামের এক বিশেষ উপাদান যার জীবাণুনাশক ক্ষমতা আছে। এটি দুধের ‘ফ্যাট’ বা স্নেহধর্মী অংশে থাকে। পাওয়া যায় মায়ের দুধ ও গরুর দুধ দুটোতেই। নারকেলেও ‘মনোক্যাপ্রিন’ পাওয়া যায়। গবেষকরা মনোক্যাপ্রিনকে প্রক্রিয়াজাত করে ওষুধ বানাতে চেষ্টা করেছেন। মার্কিন গবেষক হ্যালডর থশ্যার কিছু জীবজন্তুর উপর এটি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সফল হলে আশা করা যায়, গোটা মানব জাতিই উপকৃত হবে। 

শিশুর চোখের সমস্যা

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। ভবিষ্যত এই প্রজন্মের সুস্থতার উপর দেশ ও দশের এগিয়ে যাওয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল। শারীরিক ও মানষিক সুস্থতার পাশাপাশি চোখের সুস্থতাও সমান গুরুত্ব বহন করে।

গুরুত্বঃ দৃষ্টিহীন শিশুকে অন্যের উপর নির্ভর করে সারাজীবন কাটাতে হয়। এতে দেশ দুই জন মানুষের পূণর্াঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও পর নির্ভরশীলতার কারণে শিশু মানষিকভাবেও বির্পযস্ত হয়ে পড়ে।

দৃষ্টিস্বল্পতার কারণ: ্ক জন্মগত ছানি ্ক পাওয়ার জনিত দৃষ্টিস্বল্পতা ্ক কর্ণিয়ার ঘা ্ক চোখে আঘাত ্ক চোখের ক্যান্সার (রেটিনোবস্নাস্টমা) ্ক চোখের প্রদাহ (ইউভাইটিস)

শিশুর চোখের অন্যান্য সমস্যাগুলোর মধ্যে চোখের চুলকানী বা অ্যালার্জী এবং চোখ দিয়ে পানি পড়া অন্যতম।

ছানিঃ জন্মের পর পর বা কিছুদিন পর এক বা উভয় চোখে সাদা আস্তর দেখা যাওয়া ছানিরোগের লক্ষণ। ডেলিভারীর সময় চোখে আঘাতের কারণে, গর্ভকালীন মায়ের রুবেলা জ্বর, বিভিন্ন ওষুধ সেবন এবং বংশগত কারণে শিশুর চোখের ছানি পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশনের মাধ্যমে ছানি অপসারণ করে পরবতর্ীতে সময়মত কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব। অপারেশনের বিলম্বের কারণে চিরতরে শিশু দৃষ্টি হারাতে পারে।

পাওয়ার জনিত দৃষ্টিস্বল্পতা: ঘনঘন চোখ নড়াচড়া করা, চোখ বেঁকে যাওয়া, বস্তু অনুসরণ না করতে পারা, ঘনঘন চোখে হাত দেয়া, কাছে গিয়ে টেলিভিশন দেখা,মাথাব্যাথা করা ইত্যাদি দৃষ্টিস্বল্পতা লক্ষণ। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কর্ণিয়ার ঘা: অপুষ্টি জনিত কারণে ভিটামিন এর অভাবে দুই চোখে ঘা হতে পারে। এছাড়াও ডেলিভারীর সময়ে চোখে আঘাতের কারণে এবং জন্মের পরে যে কোন সময়ে জীবানু সংক্রমনের কারণে চোখে ঘা হতে পারে। চোখে ব্যথা, আলোতে চোখ খুলতে না পারা, চোখ লাল হওয়া, কালোমনিতে সাদা দাগ পড়া এ রোগের লক্ষণ। ডাক্তারের পরামর্শে চোখের জীবানু পরীক্ষা করে এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

চোখের ক্যান্সারঃ বিড়ালের চোখের মত চোখ জ্বল জ্বল করা, চোখ লাল হওয়া এই রোগের লক্ষণ, চোখে ব্যথা হওয়া, চোখ বেঁকে যাওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি চোখের ক্যান্সার বা রেটিনোবস্নাসটোয়ার লক্ষণ। এই সব লক্ষণ দেখামাত্র দেরী না করে চক্ষু বিশেজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। চোখের ক্যান্সার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চোখের অ্যালাজর্ী :ঘনঘন চোখে হাত দেয়া, চোখ কচলানো, চোখ লাল হওয়া,শুষ্ক মৌসুমে এই রোগ রোগ বেশী দেখা যায়। বছরে ২/৩ বার চোখে অ্যালাজর্ী হতে পারে। ধুলাবালি, ধুঁয়া, বিভিন্ন খাবার এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থে শরীরে এবং চোখে অ্যালাজর্ী হতে পারে।

চোখ দিয়ে পানি পড়া: জন্মগতভাবে চোখের পানি সরে যাবার নেত্রনালী বন্ধ থাকলে চোখের পানি উপচে পড়ে। এতে চিন্তিত হবার কিছু নাই। ১-২ বছরের মধ্যে বন্ধনালী আপনাতেই খুলে গেলে চোখের পানি পড়া অনেকাংশে কমে যায়
।ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক চোখের কোণায় মালিশ করা এবং চোখে ড্রপ ব্যবহারে এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

পরিশেষে বলতে হয়, শিশুরা অনেক কিছু বলে বোঝাতে পারেনা। ফলে তাদের সমস্যাগুলো অপ্রকাশ্যই থেকে যায়। এ সকল সমস্যা শেষ পর্যন্ত শিশুর অন্ধত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং শিশুর দৃষ্টি অধিকার রক্ষায় আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।