Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.

Showing posts with label খাদ্য ও পুষ্টি. Show all posts
Showing posts with label খাদ্য ও পুষ্টি. Show all posts

লিচুর কিছু অজানা তথ্য!

লিচু: by bd health tips
. চীনারা লিচুকে ভালোবাসা ও রোমান্সের ফল হিসেবে মর্যাদা দেয়। তাদের বিশ্বাস, যারা লিচু মুখে পুরবে, তারাই এর প্রেমে পড়বে।
. লিচুতে রয়েছে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও প্রোটিন। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর ৬৬ ভাগই হলো ক্যালরি।
. এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। খাদ্য হজমকারী আঁশ, ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে জমা করে।
. লিচুতে রয়েছে অলিগোনল নামের এক ধরনের উপাদান। একে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপাদান রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, ত্বকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমায়।
. লিচু ক্যান্সার থেকে মানবদেহকে দেয় সুরক্ষা। এটি ক্যান্সার তৈরিকারী কোষ ধ্বংস করে। এতে অবস্থিত ফ্ল্যাভনয়িডস বা ভিটামিন ‘পি’ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
. শরীর সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ‘সি’। লিচুতে এ ভিটামিন রয়েছে প্রচুর; যা ত্বক, হাড় এবং কোষের সজীবতা রক্ষা করে। হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ভিটামিন ‘সি’ অব্যর্থ বলেই বিবেচিত।
. ভিটামিন ‘বি’-এর মজুতঘর হিসেবে লিচুকে ধরা হয়। থিয়ামিন, নিয়াসিন নামের ভিটামিনগুলো লিচুকে করেছে আরো বেশি কার্যকর। এসব ভিটামিন শরীরের বিপাক ক্ষমতা বাড়ায়।
. এতে অবস্থিত পটাসিয়াম এবং খনিজের মতো উপাদান হূদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিদিন একটি করে আপেল বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ

প্রতিদিন একটি করে আপেল বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ:

৫০+ বয়সের লোকেরা প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে বছরে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক থেকে প্রাণে বাঁচতে পারে ৮ হাজার ৫শত’ জন। যুক্তরাজ্যের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় এইকথা বলা হয়েছে।
আপেল ঔষুধের মতোই হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। তাছাড়া, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকবে না- ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে জানিয়েছেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
তারা বলছেন, আপেল খেয়ে ডাক্তার দূরে রাখার এ মন্ত্র বিশেষত ৫০+ লোকেদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বয়সের মানুষদেরই হার্টঅ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থকে।
বিবিসি জানায়, ৫০+ বয়সের মানুষদের জন্য কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ কিংবা দিনে একটি আপেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে গবেষকরা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে মৃত্যুর সাধারণ কারণগুলোর ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন।
দেখা গেছে, ওই পরামর্শ মেনে চলা প্রতি ১০ জনে অন্তত ৭ জনের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনে বাঁচানো সম্ভব হয় ৯ হাজার ৪শ’ প্রাণ। আর দিনে একটি আপেলে বাঁচানো সম্ভব হয় ৮ হাজার ৫শ’ প্রাণ।
হাজার হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষামূলক চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গবেষক ডাক্তার ব্রিগস বলেন যে, “খাদ্যাভ্যাসে ছোট্ট একটি পরিবর্তন কি বিরাট ফল বয়ে আনতে পারে এ গবেষণায় সেটিই দেখিয়ে দিয়েছে। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বেঁচে থাকাটাও হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে সত্যিই কাজে আসে”।
Related posts: পেঁপের পুষ্টি
                    
এলাচের উপকারিতা!
                       কচুশাকের পুষ্টিগুণ

ভাত খাবার পর সিগারেট খাবেন না কেন। জেনে নিন


ভাত খাবার পর একটি সিগারেট বা বিড়ি অনেক বেশী ক্ষতি করে আপনার শরীরের

ধুমপান করবেন না।
আপনি সারাদিনে অনেকগুলো সিগারেট খেলেও যতটুকু না ক্ষতি হয়, ভাত খাবার পর একটি সিগারেট বা বিড়ি তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি করবে আপনার শরীরের।সাধারণত
ভাত খাবার পর একটা সিগারেট খাওয়া আর সার্বিকভাবে দশটা সিগারেট খাওয়া ক্ষতির বিবেচনায় সমান বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


Releted post: helth problem

এলাচের উপকারিতা!

এলাচকে বলা হয় মসলার রানী। এলাচ সুগন্ধিযুক্ত একটি মসলা। খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এলাচ। রান্নার স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা। নিচে এলাচের উপকারিতা তুলে ধরা হলোঃ

☞☞১) আপনি কি মুখের দুর্গন্ধ, মাঢ়ি দিয়ে রক্তপাত অথবা দাঁত ক্ষয় হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে কালো এলাচ মুখে নিয়ে চাবাতে পারেন। কেননা এলাচের তেল মুখের সমস্যা দূর করতে কার্যকর একটি ওষুধ।

☞☞২) এলাচ ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। এ জন্য ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত এলাচ খাওয়া উচিত।

☞☞৩) শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা হুপিংকাশি, ফুসফুস সংক্রমণ ও অ্যাজমার মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য এলাচ খুবই উপকারী।

☞☞৪) মাথাব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে এলাচ তেলের ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়।

☞☞৫) এটি অনুভূতি নাশক ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করে।

☞☞৬) কালো এলাচ হার্ট সুস্থ রাখে, রক্তচাপ ও ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।

☞☞৭) কালো এলাচ হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এ ছাড়া এলাচ রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক।

☞☞৮) এতে থাকে ভিটামিন সি, যা রক্ত সঞ্চালন ও ত্বক সমস্যা দূর করে।

☞☞৯) রূপচর্চায় এর জুড়ি নেই, রূপচর্চা ও চেহারার কালো দাগ দূর করতে এলাচের জুড়ি নেই।

খাদ্যে অ্যালার্জি ও করণীয়

নানা রকম জিনিস যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর মাংস, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। এগুলোই হলো খাদ্যের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ সচরাচর খাদ্য অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন। তবে জন্ম হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। 

প্রকারভেদ 
ফুড অ্যালার্জিঃ খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে?
গরুর দুধ, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শৈল, বেগুন, কুমড়া, কচু ইত্যাদি।
খাদ্যে অ্যালার্জিজনিত লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে দেখা দেয় যেমনঃ 
-ত্বকে বা চামড়ায় চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ওঠে। 
-চোখ চুলকানো, পানিপড়া, লাল হয়ে ওঠা, ফুলে ওঠা। 
-উপরের শ্বাসনালীতে, নাকে ও গলায় চুলকাতে থাকে। গলা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এমনকি কথা বলার সময় অসুবিধা হয়, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বন্ধ ভাব, অনেক সময় শব্দও থাকে। 
-নিচের শ্বাসনালীতে শ্বাসকষ্ট, কাশি, দম খাটো খাটো ভাব, বাঁশির মতো আওয়াজ। 
পরিপাকতন্ত্রেঃ বমি বমি ভাব, পেটে ক্যাম্প বা ব্যথা, ডায়রিয়া দেখা যায়। 

কীভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যায়? 
রোগের ইতিহাস থেকে যেমন কত সময় ধরে শুরু হয়েছে, রোগের লক্ষণ, খাদ্য গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যবর্তী সময় এবং এটপিক ডার্মাটাইটিস, অ্যাজমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগে থাকেন কিনা। 
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-স্কিন প্রিক টেষ্ট, স্পেসিফিক আইজিই।
খাদ্য তালিকা থেকে অ্যালার্জিজনিত খাদ্যদ্রব্যাদি বাদ দিয়ে পরীক্ষাঃ রোগীর ইতিহাস ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যালার্জিক খাবার শনাক্ত করার পর ওই খাবার দুই থেকে ছয় সপ্তাহ বাদ দেয়ার পর যদি রোগের লক্ষণগুলো সেরে যায় তবে বুঝতে হবে যে ওই খাদ্যেই এই অ্যালার্জির জন্য দায়ী। 

অ্যালার্জি খাদ্য না খেয়েও অ্যালার্জি খাদ্যের সংস্পর্শে এলেও কি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে? 
হ্যাঁ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন কড়াইতে চিংড়ি সিদ্ধ করার সময় বায়ুবাহিত কিছু প্রোটিন বের হয় এবং শ্বাসনালীর ভেতর ঢুকেই এনাফাইলোটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। 
এটা বোঝার উপায় হলো যদি অ্যালার্জিক খাবার খাওয়া হয় এবং ওই খাদ্য খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি বেশি ব্যায়াম করা হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা দেয়। 

অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? 
সাধারণত অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্যাজমা হয় না, তবে অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখ চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের জিজ্ঞেস করলে তাদের ২০-৬০ ভাগ মনে করেন তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্য তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন, সেই খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায় মাত্র ২-৫ ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে যা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুদের ৬-৮ ভাগ অ্যাজমা এই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খান না, যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই। 

উচ্চ রক্তচাপ ও খাদ্য


উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে খাদ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই রক্তের চাপ কমাতে প্রথমেই খাবারের ব্যাপারে সজাগ হওয়া দরকার। দেখা গেছে, খাবারে সোডিয়াম, ক্যালরি, আমিষ ও চর্বি কমিয়ে ফেললে তা রক্তচাপ কমাতে বেশ কাজে দেয়। একটা ধারণা প্রচলিত আছে, রক্তচাপ বাড়া ও কমার সঙ্গে লবণের বেশ সম্পর্ক রয়েছে। যদি দৈনিক ৪ গ্রাম লবণ খাওয়া হয়, তাহলে রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক থাকে। তবে এটি এখনো প্রমাণিত হয়নি যে উচ্চ রক্তচাপের কারণ অথবা উচ্চ রক্তচাপ সারানো একমাত্র লবণ গ্রহণ ও বর্জনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই সুফল বয়ে আনে।

কোনো কোনো খাবারে লবণ থাকলেও তা বোঝা যায় না। যেমন মাংস, কোনো কোনো সবজি, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সয়াসস, পটেটো টিপস ইত্যাদি। আবার বাণিজ্যিকভাবে তৈরি খাবারে আলাদাভাবে লবণ দেওয়া থাকে। যেমন বারবিকিউ, ্নোকড ফিশ, আচার, পনির, স্যুপ কিউব, পিকেলস ইত্যাদি। তাজা ফলে সোডিয়াম একেবারেই কম থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি খুবই ভালো। এক গ্লাস দুধে সোডিয়াম আছে ১২৬ মিলিগ্রাম। আর একটি ফলে সোডিয়াম আছে প্রকারভেদে ১-২৫ মিলিগ্রাম। শিকাগোর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল স্কুলের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, যাদের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা রয়েছে, তারা যদি দিনে ৫ গ্রামের (এক চা-চামচ) কম লবণ খায়, তাহলে উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে পারেন। ২০১ জনের ওপর পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এই গবেষণা চালানো হয়। এতে নারী-পুরুষ উভয়ই ছিল এবং তাদের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৪৪ বছর।
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হৃদরোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রাণিজ চর্বি যেমন ঘি, মাখন, মাংসের চর্বি না খাওয়াই ভালো। বনস্পতি ও মার্জারিন উদ্ভিজ্জ চর্বি হলেও ঘনত্বের কারণে এগুলো বাদ দেওয়াই ভালো। আবার উদ্ভিজ্জ তেল খেতে বাধা না থাকলেও বেশি পরিমাণে গ্রহণ শরীরের ওজন বাড়ায়। তাই খাবার হতে হবে পরিমিত এবং কম চর্বিযুক্ত। দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত চর্বি গ্রহণ করা যেতে পারে। মাছের চর্বি নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে। কারণ, এই চর্বি কোনো সমস্যা নয়, এটি সহজপাচ্য শর্করা, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যেমন ভাত ও ফেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা একটি সুষম খাবার তালিকা অনুসরণ করলে ভালো হয়। যার অনুপাত হবে ২০ শতাংশ শর্করা, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আমিষ এবং ৫ শতাংশ চর্বি। এই পরিকল্পনায় কাঁচা খাবার থাকবে প্রধান ও দ্বিতীয় প্রাধান্য থাকবে রান্না করা খাবারের। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের আপাতদৃষ্টিতে অসুস্থ মনে হয় না বলেই একে নিঃশব্দ ঘাতক বলা হয়। তবে জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং খাবারদাবারে কিছুটা সচেতন ও যত্নবান হলেই এটা এড়ানো যায়।

**************************
আখতারুন নাহার
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, বারডেম  

কচুশাকের পুষ্টিগুণ


কচু একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর সবজি। এদেশে কচু তেমন সমাদৃত নয় এবং অনেকটা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়। অথচ কচুশাক। ভিটামিন ‘এ’ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। তাই দেহের পুষ্টি চাহিদ পূরণে কচুশাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ শাক দু’প্রকার। যথাঃ (১) সবুজ কচুশাক ও (২) কালো কচুশাক। খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ ও কালো কচুশাকে যথাক্রমে ১০২৭৮ ও ১২০০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন রয়েছে। এ ক্যারোটিন থেকেই আমরা ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকি। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ কচুশাক থেকে-
৩·৯ গ্রাম প্রোটিন,
৬·৮ গ্রাম শর্করা,
১·৫ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি,
২২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,
১০ মিলিগ্রাম লৌহ,
০·২২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন),
০·২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেবিন),
১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি ও
৫৬ কিলোক্যালোরী খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়।

সবুজ কচুশাকের চেয়ে কালো কচুশাক অনেক বেশি পুষ্টিকর। প্রতি ১০০ গাম কালো কচুশাকে-

৬·৮ গ্রাম প্রোটিন,
৮·১ গ্রাম শর্করা,
২·০ গ্রাম চর্বি,
৪৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,
৩৮·৭ মিলিগ্রাম লৌহ,
০,০৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘বি-১ (থায়ামিন),
০·৪৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘বি-২ (রাইবোফ্লোবিন),
৬৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ ও
৭৭ কিলোক্যালোরী খাদ্যশক্তি রয়েছে। 

পেঁপের পুষ্টি


পেঁপে একটি খাদ্যমানসমৃদ্ধ ফল। এটি একটি সবজিও। পেঁপেকে রোগ প্রতিরোধক খাদ্যও বলা চলে। সহজপাচ্য, সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও সারা বছর সব জায়গায় পাওয়া যায় বলে সবজি ও ফল হিসেবে পেঁপের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
প্রায় সব ধরনের পুষ্টি-উপাদানই পেঁপেতে আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এ ক্যারোটিনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১৩৫০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল সমতুল্য বা ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের শরীরে কাজে লাগে।
পাকা পেঁপেতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৫৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক ৩০ মিলিগ্রাম ও বাচ্চাদের ৩৫ গ্রাম পেঁপে খেলেই ভিটামিন ‘এ’র সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’র চাহিদাও পূরণ হয়। পাকা পেঁপে রান্না করে খেতে হয় না বলে এর ভিটামিন ‘সি’র সবটুকু আমাদের দেহে কাজে লাগে। কাঁচা পেঁপেতেও রয়েছে যথেষ্ট খাদ্যগুণ। এতে পাকা পেঁপের চেয়ে লৌহ, চর্বি, ভিটামিন ‘বি’সহ আঁশ বেশি থাকে। কাঁচা পেঁপেতে পেপসিন নামের জারক রস থাকে, যা আমিষ হজমের জন্য প্রয়োজন। কাঁচা পেঁপে থেকে হালুয়া, পায়েস, স্যুপ, সালাদ, চাটনি, আচার ইত্যাদি লোভনীয় সুস্বাদু, মুখরোচক ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে পেঁপের ভূমিকা অনেক।

রসুনের গুণাগুণ

রসুন, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য ঝাঁঝালো সবজি অনেক ক্ষেত্রেই বেশ উপকারী। ক্যাসার গবেষকদের মতে রসুন ও পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে পুরুষরা প্রষ্টেট ক্যাসারের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। চীন দেশের গবেষকরা এ ব্যাপারে আরো উচ্চকিত। তারা বলেন, যারা প্রত্যহ ১০ গ্রামের অধিক পরিমাণে রসুন, পেঁয়াজ বা অন্যান্য ঝাঁঝালো স্বাদের সবজি খেয়ে আসছেন, তাদের প্রষ্টেট ক্যাসার হওয়ার ঝুঁকি যারা প্রত্যহ ২.২ গ্রামের কম খাচ্ছেন তাদের অর্ধেক (৫০%)। ১০ গ্রাম পুর্ণ করতে ৩ কোয়া রসুন বা ১ চা-চামচ পেঁয়াজের কুচি খেতে হবে। এটি খুবই সহজ। রান্না করা রসুন বা পেঁয়াজ খেলে তা কম উপকারী হবে-এরুপ কোনো তথ্য আমাদের হাতে এখন পর্যন্ত আসেনি।

আগে আমরা জানতাম, রসুন জীবনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেহ যুদ্ধ করার শক্তি জোগায়। তাছাড়া এরা রক্তের কোলষ্টেরল কমায় এবং সম্ভবত অন্যান্য ক্যাসারের বৃদ্ধির হার কমায়। ভারতীয় গবেষকরা আরো দাবি করেন, যারা প্রতিদিন রসুন খেয়ে আসছেন তাদের হৃৎপিন্ড হার্ট অ্যাটাকের পর কম ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং হৃৎপিন্ডের অপারেশনের পর তারা দ্রুত সেরে ওঠেন। মানুষ বাদে অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রের রসুন খেলে রক্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে বড়ি হিসেবে রসুন খেলে তা খুব ফলদায়ক হয় না।

অতএব, হৃদরোগ থেকে দুরে থাকতে এবং সামগ্রিকভাবে রোগহীন জীবন-যাপন করতে প্রতিদিন রসুন খেতে পারেন।

কাঁচা পেঁপে উপকারী


সালাদ হিসেবে কাঁচা পেপের নানা গুণ
সালাদ খান না এমন পরিবার খুব কমই পাওয়া যাবে। সালাদ এখন খাবার টেবিলের অন্যতম সহ আইটেমেব বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে টমেটো, শসা, গাজর, কাঁচামরিচ, পিঁয়াজ, লেটুসপাতা সালাদে স্থান পায়।
এসব সবজির মিশ্রনে তৈরী সালাদ ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ইর পরিমাণ থাকায় এধরনের সালাদ এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। তবে সালাদে যদি কাচা পেপে মেশানো হয় তাহলে এটা আরও উপকারী। কারণ পেঁপেতে থাকে প্রচুর পরিমাণ পেপসিন। এই পেপসিন হজমে সাহায্য করে।

ক্লান্ত শরীরের জন্য খাবার


খাদ্যকে বলা হয় দেহের জ্বালানির উৎস। খাদ্য থেকেই দেহের পুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় শক্তি। কিন্তু দৈনন্দিন উপযুক্ত খাবারের অভাবে শুধু শারীরিক পুষ্টিরই ব্যাঘাত ঘটে না ক্লান্তি ও অবসাদে ভরে যেতে পারে দেহমন- হারিয়ে যেতে পারে স্বাভাবিক কর্ম-উদ্দীপনা। শরীরকে সতেজ এবং কর্মচঞ্চল রাখতে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ বিশেষ খাবারের প্রতি একটু বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এগুলো হচ্ছেঃ
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারঃ দৈহিক ক্লান্তি এবং অবসন্নতা দূর করতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খুবই জরুরী। মাছ-মাংস ছাড়াও এক্ষেত্রে সীম জাতীয় খাদ্য প্রোটিন সরবরাহের চমৎকার উৎস হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সীম, বরবটি, ছোলা, ডাল জাতীয় শস্য প্রোটিন সরবরাহের অনন্য উৎস। এসব খাবারে প্রোটিন ছাড়াও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন। ডাঃ ক্লার্কের মতে, আয়রনের অভাবে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের অধ্যাপক ড· শেল্ডন বলেন যে আয়রন বা লৌহ উপাদান হচ্ছে শরীরে শক্তি জোগানোর মূল চাবিকাঠি। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সীম জাতীয় শস্য এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা চাই।
সবুজ রং-এর শাক-সবজিঃ সবুজ পাতাবিশিষ্ট শাক (সাইনাক) ম্যাগনেসিয়াম উপাদান সমৃদ্ধ। আমাদের মাংসপেশী শর্করা জাতীয় খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য ম্যাগনেশিয়ামের ওপর নির্ভরশীল। মাংসপেশীকে মজবুত, দৃঢ় এবং কর্মক্ষম রাখতে সবুজ বা ঘন সবুজ রং-এর শাক-সবজি খুবই সহায়ক।
মাছের গুরুত্বঃ অধুনা মাছ একটি নিরাপদ, কোলস্টেরলমুক্ত প্রোটিনের অনন্য উৎস হিসাবে বিবেচিত। বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য অথচ প্রোটিনের ঘাটতি মস্তিষ্কে অবসাদ এবং ঘুম ঘুম ভাব সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে মাছকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছে বিশেষতঃ টুনাতে টাইরোসিন (ঞুৎড়ংরহব) নামের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। টাইরোসিন নর-ইপিনেফ্রাইন (ঘড়ৎ-বঢ়রহবঢ়যৎরহব) এবং ডোপামিন (উড়ঢ়ধসরহব) নামের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করে থাকে। এই ট্রান্সমিটারগুলো মস্তিষ্কের একাগ্রতা, মনসংযোগ ক্ষমতা বা মানসিক দৃঢ়তা সংরক্ষণের জন্য সাহায্য করে। তাছাড়া মাছে হ্নদহিতকর ও মেগা-৩ ফ্যাটি এসিডও রয়েছে। আবার মাছের প্রোটিন মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা সংরক্ষণেও জরুরী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কম-বেশী কিছু পরিমাণ মাছ থাকা প্রয়োজন।
ওটমিল (Oatmeal): ভাত, গস্নুকোজ বা চিনিসমৃদ্ধ আঁশবিহীন খাবার রক্তে দ্রুত শর্করা বৃদ্ধি করে আবার নিঃশেষিতও হয় ত্বরিত গতিতে। অন্যদিকে গম, যব, ভুট্টা বা ওটমিল ইত্যাদি আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় ধীরগতিতে অথচ অব্যাহতভাবে শক্তির যোগান দিতে থাকে। তাই এসব খাবারে সকালে নাস্তা খেয়ে সারাদিনের কর্মক্ষমতায় প্র‘তি নেয়া যায়।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারঃ মাসিকের শুরুতে বা মাসিক চলাকালীন সময়ে অনেক মহিলা অবসন্নতা এবং অস্বস্তিতে ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বিশেষত কম চর্বিযুক্ত ইয়োগাট, স্কিমড মিল্ক অবাঞ্ছিত অনেক উপসর্গ এড়াতে সাহায্য করে।
কলাঃ কলা চমৎকার ‘এনার্জি প্যাক’ হিসাবে কাজ করে। কলাতে রয়েছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম যা ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে কাজ করে এবং পেশী ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম রক্ষা করে। পটাশিয়ামের অভাবে মাংসপেশীর ব্যথা, অনিয়মিত হ্নদস্পন্দন, মানসিক দ্বিধা, অবসাদগ্রস্ততা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। কলা দেহের ঙাবৎযবধঃরহম বা অতিরিক্ত তাপপ্রবণতাও দূর করে। ক্লান্তি ও অবসাদ রোধে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস খুবই ভাল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলার পাশাপাশি নানা জাতীয় ফলমূল গ্রহণও শরীরকে সতেজ রাখে। অধিকাংশ ফলেই ভিটামিন ‘সি’ পর্যাপ্ত থাকে যা লৌহ বা আয়রনকে শোষণে সাহায্য করে। ফল দেহের পুষ্টি বৃদ্ধিকারী বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থেরও যোগানদাতা। ক্লান্তি ও অবসাদ দূরীকরণে ফলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
জটিল কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাঃ আমাদের প্রধান দুই আহারের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে রুটি, নানরুটি, পরোটা ইত্যাদি শক্তির চমৎকার উৎস হতে পারে। পেশী ও লিভারে গস্নাইকোজেন হিসাবে জমা রেখে প্রয়োজন মাফিক এসব খাবার শক্তি দিয়ে থাকে।

লেবুর পুষ্টিগুণ

লেবুর পুষ্টিমান সম্পর্কে অনেকেরই জানা আছে। তবে পুরোপুরি গুণের কথা হয়ত সবারই জানা নেই। এসময়হরেক রকম লেবু পাওয়া যায় বাজারে পাতি লেবু, কমলালেবু, মোসাম্বিলেবু, গন্ধরাজ ও বাতাবিলেবু। ১০০ গ্রাম কাগজি বা পাতিলেবু থেকে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় ভিটামিন সি ৬৩ মিঃ গ্রাম যা আপেলের ৩২ গুন ও আঙ্গুরের দ্বিগুণ, ক্যালসিয়াম ৯০ মিঃ গ্রাম, ভিটামিন এ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ০•১৫ মিঃ গ্রাম, ফসফরাস ২০ মিঃ গ্রাম, লৌহ ০•৩ মিঃ গ্রাম। টাটকা লেবুর খোসাতেও পুষ্টি রয়েছে। প্রচন্ড গরমে ১ গস্নাস ঠান্ডা লেবুর শরবত দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং স্বস্তি ফিরে আনে। লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। এই ভিটামিন দেহে সঞ্চিত অবস্থায় থাকে না, সেজন্য শিশু-বৃদ্ধ সকলকে প্রতিদিনই ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। জ্বর, সর্দি, কাশি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় লেবু অত্যন্ত কার্যকর। লেবুতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। স্কার্ভি রোগ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন সি দেহের ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং রক্তের জমাট বাঁধার ক্ষমতা বাড়ায়। লেবুতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি অ্যান্টি অক্সিডেন্টস হিসাবে কাজ করে দেহে ক্যান্সারসহ নানা ঘাত প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে। শিশুদের দৈনিক ২০ মিঃ গ্রাম ভিটামিন সি আবশ্যক। এ সময় ভিটামিন সি এর অভাব হলে তা শিশুর উপর প্রভাব পড়ে ফলে শিশুর দাঁত, মাঁড়ি ও পেশী মজবুত হয় না। মাথায় খুশকি নিবারণে লেবুর রয়েছে অসাধারণ ক্ষমতা। লেবুর রস চুলের গোড়ায় ঘসে ঘসে লাগায়ে ১৫/২০ মিনিট পর পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে দুদিন করে লাগালে মাথার খুশকি হবে সাফ এবং চুুলের আঠালো ভাব দূর হয়ে চুল হবে উজ্জ্বল, মসৃণ। যাদের অরুচি ভাব আছে তারা খাবারে লেবু খেলে রুচি ফিরে পাবে খুব দ্রুত। সুতরাং আমাদের নিত্যদিনই ভিটামিন সি জাতীয় ফল লেবু অন্যান্য সস্তা দেশীয় ফল আমলকি, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, আমড়া, কুল, খাওয়া উচিত।

শর্করা খাবারের নানাদিক


অপেক্ষাকৃত সাদা ভাত, সাদা ময়দার রুটি, আঁশবিহীন চিনি, শর্করা সমৃদ্ধ বেকারী বিস্কুট, চিপ্‌স ইত্যাদি খাবার মোটা হবার প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে, ঘটাতে পারে স্বাস্থ্য বিপত্তি।
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বিশেষ করে ভাত, আটা, চিনি, আলু ইত্যাদি আমাদের প্রধান খাদ্য এবং শক্তির সমৃদ্ধতর উৎস। এছাড়া শস্যদানা, ফলমূল, শাক-সবজিতেও অন্যান্য উপাদানের সাথে শর্করা বিভিন্ন মাত্রায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে চর্বি বা ফ্যাটের যেমন ভালো-মন্দ রয়েছে শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যেও তেমনি ভালো শর্করা মন্দ শর্করা রয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ শর্করা জাতীয় খাদ্যের যথাযথ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অতি-পরিশোধিত শর্করার চেয়ে অপরিশোধিত শর্করা তুলনামূলক বিচারে অধিকতর স্বাস্থ্যপ্রদ। অপেক্ষাকৃত সাদা ভাত, সাদা ময়দার রুটি, আঁশবিহীন চিনি, শর্করা সমৃদ্ধ বেকারী বিস্কুট, চিপ্‌স ইত্যাদি খাবার মোটা হবার প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে, ঘটাতে পারে স্বাস্থ্য বিপত্তি।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এসব অতি-পরিশোধিত খাবার অতিদ্রুত পরিশোধিত হয়ে রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই গস্নুকোজ হজম করতে ইনস্যুলিন হরমোনের নিঃসরণও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইনসুলিন যোগাতে ইনসুলিন নিঃসরণকারী প্যানক্রিয়াস গ্রন্থির উপর চাপ পড়ে বেশী। এক পর্যায়ে ইনসুলিন রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করার যথাযথ ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারে। দেখা দিতে পারে ডায়াবেটিস। বিজ্ঞানীদের মতে, রক্তে উচ্চমাত্রার গ্লুকোজ রক্তচাপ এবং রক্তের চর্বির মাত্রাও বৃদ্ধি করতে সক্ষম। পরিশোধিত বিশেষ বিশেষ খাবার অতি মাত্রায় গ্রহণের ফলে উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে দেখা দিতে পারে মেদবহুলতা। আবার এই স্থুলতার কারণেও বাড়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনী ইত্যাদির ঝুঁকি।
টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রফেসর ডিভিড জেনকিনস মনে করেন রক্তে খুব দ্রুত গস্ন্যুকোজ মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এমন সব খাবার বেশী বেশী খাওয়ার সাথে ওভারী, স্তন এবং কোলন ক্যান্সারের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে খাদ্যগ্রহণে কেবল চর্বির ব্যাপারে সতর্কতাই যথেষ্ট নয় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের গুণগতমান বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।
গুণগতমান বিবেচনায় আটার রুটি ময়দার রুটির চেয়ে ভাল।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতার স্বার্থে উচ্চ ঐঅ মান সম্পন্ন চিনি, সাদা ময়দা ইত্যাদির বিকল্প হিসেবে আটার রুটি, আঁশসমৃদ্ধ শস্যদানা, শাক-সবজি, ফলমূল গ্রহণের উপর গুরত্ব আরোপ করেছেন।
পাশাপাশি মান অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় জলপাই বা ক্যানোলা তৈল, বাদাম, প্রোটিন জাতীয় খাবার মাছ, মুরগী চর্বিবিহীন মাংস এসবকে মানসম্পন্ন খাবার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বলা বাহুল্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অতিপরিশোধিত শর্করা এবং অন্যান্য খাবারের চেয়ে অধিকতর মানসম্পন্ন অপরিশোধিত শর্করা বা অন্যান্য খাবার গ্রহণই শ্রেয়।
**************************
কায়েদ-উয-জামান
সহকারী অধ্যাপক, জীববিজ্ঞান বিভাগ,
শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, জামালপুর।

ভাতের সহযোগী আলু


ভেতো বাঙালি বলে আমাদেরকে যতই উল্লেখ করা হোক এখানে সেখানে, পৃথিবীর নানা দেশের অসংখ্য লোক কিন্তু ভাত খায়। তবে পরিমাণে কম খায়। আর ভাত এতো ভালো শ্বেতসার আর এতো সহজপাচ্য যে এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চালের দাম যে বেড়েই চলেছে এমন অবস্থায় কেবল ভাতের উপর নির্ভর করে বসে থাকা কি ভালো? সবাই এখন বিকল্প শ্বেতসার খুঁজছেন, যোগও করছেন খাবারে। আমাদেরও বসে থাকা কেন?
এদিকে আলুর বদনামও হয়েছে অনেক। দৃষ্টিনন্দন পটেটো স্যালাডকে অনেকে না বলে দিচ্ছেন এই কারণে যে আলু খেলে নাকি শরীরে মেদ হয়। ভাতের বদলে আলু খেতে বললে উষ্মা তো হতেই পারে। তার চেয়ে বরং ভাতের সহযোগী হিসাবে আলু খেতে বলাই ভালো। তাহলে কোন্‌ শ্বেতসার খাব? কথা তো হতেই পারে। নানা বেলার খাবার প্ল্যান করতে গিয়ে তখন গ্লাইসিমিক ইনডেক্সের মত জটিল ব্যাপারও এসে যায়। তবে শরীরে এনার্জির একটি ভালো উৎস ‘আলু’ সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণাও আছে আমাদের মধ্যে। আলুর যে অনেক গুণ তা এসব ধারণার মধ্যে চাপা পড়ে যায়। আলুর মধ্যে চর্বি আছে অতি সামান্য (একটি মাঝারি আয়তনের আলুর মধ্যে মাত্র ০•১ মিলিগ্রাম)। আর আলুতে মোটেও কোলেস্টেরল নেই। নর্থ ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে ট্রান্স ডিসিপ্লিনারি হেলথ বিভাগের আফ্রিকা ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক হেস্টার ভস্টার বলেন, ‘খোসাসহ আলু সিদ্ধ করলে এতে এনার্জি মূল্য কমে এবং  স্লিমিং ডায়েট হিসাবে এবং দেহের ওজন কমানোর জন্য খাদ্য হিসাবে আলু আদর্শ’।
আলু খেলে পেট ভরাট লাগে, তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পেট ভরাট লাগে, এজন্য ওজন হ্রাসের খাদ্য হিসাবে আলু বেশ ভালো।
যেহেতু আলু কোলেস্টেরলমুক্ত সেজন্য হৃদস্বাস্থ্যকর হিসাবে একে বিবেচনা তো করাই যায়। ইঁদুরের ওপর আলু সমৃদ্ধ খাদ্যের প্রভাব সম্বন্ধে গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করেছেন গবেষকরা (ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন, ভলুম ৪৫, ইস্যু ৫, ২০০৬) এদের বক্তব্য হলোঃ রান্না করা আলু গ্রহণ করলে দেহে এন্টি অক্সিডেন্ট সুরক্ষা বাড়ে, লিপিডের বিপাক উন্নত হয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে এসব ফলাফল বিবেচ্য হতে পারে। আমাদের শরীর স্থূল হলে মেদ ঝরাতে বেশ কষ্ট এবং কেন এই কষ্ট এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে অনেক। বিশেষজ্ঞরা ইনসুলিন মানকে আমাদের দেহে চর্বি দহনের ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত করতে চাইছেন। আমরা যেসব শ্বেতসার গ্রহণ করি এগুলো দেহে ইনসুলিন মানের উন্নতি নির্ধারণ করেঃ এসব শ্বেতসারের গ্লাইসিমিক ইনডেক্স যত উঁচুতে, ইনসুলিন মানও থাকে তত উঁচুতে। যখন ইনসুলিন মান নিচু থাকে, তখন আমাদের শরীরে প্রধানত চর্বি দহন হয় এবং যখন ইনসুলিন উঁচুতে, তখন শ্বেতসার দহন হয়। অধ্যাপক ভস্টার বলেন, কখনো সখনো আমাদের শরীরকে এমন সব খাবার দিতে হয় যাদের গ্লাইসিমিক ইনডেক্স (জিআই) উঁচুতে-যেমন ধরুন, ক্রীড়াবিদ খুব দৌড়-ঝাপের পর যখন আরোগ্য লাভ করছেন, যকৃতের গ্লাইকোজন সরবরাহ পুনঃভরন হচ্ছে, অথবা এমন কোনো পরিস্থিতি যখন দ্রুত প্রাপ্য গ্লুকোজ দিতে হয় তখন উঁচু জি,আই শ্বেতসার দিতে হয়। সিদ্ধ আলু, গরম গরম আলু ভর্তা, এর রয়েছে উঁচু গ্লাইসিমিক ইনডেক্স, তখনকার জন্য আদর্শ খাদ্য। প্রফেসর ভস্টার অবশ্য এও বললেন, আলুর সব সময় উঁচু জি,আই থাকবে এমনো কথা নয়। ‘যখন সিদ্ধ আলু ঠান্ডা করা হয় এবং ঠান্ডা খাওয়া হয়, শ্বেতসার পিছু হটে এবং জি,আই কমে আসে। এর মানে হল শ্বেতসারের একটি অংশ গ্লুকোজ হিসাবে হজম হয় না বরং বৃহদন্ত্রে ফার্মেন্টেশন হয়ে সর্টচেন মেদ অম্লে পরিণত হয়। অবশ্য এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। আলু স্যালাড হিসাবে ঠান্ডা খাওয়া যায়, এর জি,আই নিচু বা মাঝারি মানে এবং ডায়েবেটিক ডায়েট হিসাবে এটি বেশ ভালো।’ আলুর ডিশে, ম্যায়োনিজ, তেল, ঘি মাখন যোগ করলে জি,আই কমে আসে আরো, ডিশের পুষ্টি উপকরণও পরিবর্তিত হয়। তাই আমাদের খাদ্যে সহযোগী হিসাবে আলু থাকতেই পারে। আলু হলো পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি, সামান্য কিলোজুল এনার্জি পেলেন, অথচ পুষ্টি পেলেন অনেক। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, নানা ধরনের স্বাদু ও লোভনীয় খাবার তৈরি হতে পারে আলু থেকে, পুষ্টি সফলতাও অনেক। খাবারে বৈচিত্র্য আনা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো তেমন বিকল্প নানা খাবার হলে বিশেষ খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যায়। মনোপলি গড়ে উঠার বিরুদ্ধে এটি একটি হাতিয়ারও বটে।
**************************
অধ্যাপক ডাঃ শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা।

ডায়াবেটিস ও আলু


মূলতঃ শর্করা জাতীয় খাবারের জন্যই খাদ্য হিসেবে আলু ও ভাত আমাদের কাছে সমাদৃত। ছোলাহ সহ ১০০ গ্রাম আলুতে থাকে ৮০ ক্যালরী। শর্করা ১৯ গ্রাম, পানির পরিমাণ ৭৫ গ্রাম, আমিষ ২ গ্রাম, চর্বি ১০ মি• গ্রাম• ফাইবার ২•২ গ্রাম। আলুতে ভিটামিন সি বেশী-২০ মি• গ্রাম/ ১০০ গ্রাম, থায়ামিন, রিবফ্লেভিন, নায়াসিন, বি-৬, যথাক্রমে-০•০৮, ০৩, ১•১ ও ২৫ মি• গ্রাম। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস যথাক্রমে ১২, ১•৮, ২৩, ৫৭ মি• গ্রাম। পটাশিয়াম বেশী ৪২১ মি• গ্রাম, সোডিয়াম ৬ মি• গ্রাম। আলুর চোচায় খাদ্যের প্রয়োজনীয় আঁশের প্রায় অর্ধেক থাকে। ৫০% এর বেশী খাদ্য উপাদান মূল আলুতে থাকে। অধিকাংশ আলুর খাবারই গরম পরিবেশিত হয়, যা অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত।
শর্করার পরিমাণ ভাতে আলুর চেয়ে বেশী। কিভাবে খাবার সরবরাহ করা হয় তার উপরেও ঐ খাদ্যের ক্যালরির মাত্রা নির্ভর করে। রকমারী পরিবেশনার জন্য আলুর ক্যালরি তারতম্য হয়।
বিভিন্ন খাবারের তুলনামূলক ক্যালরি হিসাবঃ
১০০ গ্রাম ভাতে আছে ১১৬ ক্যালরি, ১০০ গ্রাম আলুতে (ভাপে সিদ্ধ) আছে ৭৩ ক্যালরি, ১০০ গ্রাম আলুতে (পানিতে সিদ্ধ) আছে ৭৩ ক্যালরি, ১০টা আলুর চিপে আছে ১১০ ক্যালরি, ১০টা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইতে আছে ১১০ ক্যালরি, ১০০ গ্রাম আপেলে ৫৩ ক্যালরি, ১ কাপ লো ফ্যাট মিল্ক এ ১৫০ ক্যালরি, ১ কাপ নুডলসে ২০০ ক্যালরি, ১ পিচ রুটিতে ৭০ ক্যালরি, ১ কাপ টক দইতে ১১০ ক্যালরি।
সার্বিক বিবেচনায় (ক্যালরি, কার্বহাইড্রেট, ভিটমিন) খাদ্য হিসেবে আলু ও ভাত কাছাকাছি। খরচ হিসেব করলে আলু অনেক সস্তা ও কম মূল্যে এক উপকারী (সাশ্রয়ী) ভেজিটেবল প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সোর্স। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে আলু তাই একটা সাশ্রয়ী সংযোজন হতে পারে। আলু জন্মানো সহজ, ফলন অনেক বেশী। সব কিছু বিবেচনা করেই হয়তঃ জাতিসংঘ ২০০৮ সালকে বিশ্ব আলু বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
মাঝারি (১৫০ গ্রাম) একটি আলু থেকে আমেরিকানদের দৈনিক খাবারের প্রোটিনের ৬%, ভিটামিন সি’র ৫০% থায়ামিনের ৮%, রিবফ্লাভিন এর ২%, নিয়াসিনের ১০%, আয়রনের ৮%, ভিটামিন বি-৬ এর ১৫%, ফলিক এসিডের ৮%, ফসফরাসের ৮%, ম্যাগনেশিয়ামের ৮%, জিংকের ২%, কপারের ৮%, প্যান্টথেনিক এসিডের ৪% এবং আয়োডিনের ১৫% আসে। একটি মাঝারি আকারের আলু (১৫০ গ্রাম) প্রতিদিনের ক্যালরির ৪-৫% পেলেও আলু থেকে আমরা অনেক বেশী পরিমাণ অন্যান্য উপাদেয় ভিটামিন, ভেজিটেবল প্রোটিন, মিনারেল পাই। আলু ভক্ত কেউ যদি ২টা বা বেশী খায় তাহলে তো কথাই নেই। বেলোরুশিয়ার লোক সবচেয়ে বেশী আলু খায়। যে কোন আমেরিকান বছরে ১২০ পাউন্ড আলু খায়।
ডায়াবেটিস ও আলুঃ ডায়াবেটিস রোগীদের খাবারকে আমরা তিন শ্রেণীতে ভাগ করি। ভাত, আলু ইত্যাদি কমপ্লেক্স কার্বহাইড্রেট বেশী পরিমাণে খাওয়া যায়। চর্বি জাতীয় খাবার চিনি ও গ্লুকোজ না খাওয়া ভাল। দুধ, মাংস, মাংস জাতীয় খাবার যত কম তত ভাল। কোন খাবার খেলে রক্তে কতটুকু গ্লুকোজ বাড়ে ঐ খাবারের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স দিয়ে তা বোঝা যায়। সে খাবারের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স যত বেশী সেই খাবার তত বেশী গ্লুকোজ বাড়ায়। ভাত ও আলু দুটাই হাই ইন্ডেক্স খাবার। লাল চালের ভাত, মধু, আলু পাকা কলা, পাকা আম, পাকা পেপের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৮০ থেকে ৯০। সাদা চালের (পোলিশড) ভাত, কর্ণ, ফ্লেকস, আইসক্রিমের ইনেডেক্স ১০০। আলু, গাজর, এ্যপিকটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৮০-৯০, গম, সীমের বিচির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭০-৭৯, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৪০-৪৯, আপেল, ফ্যাট ফ্রি দুধ -এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩০-৩৯।
রক্তে গ্লুকোজ বাড়ানোর ক্ষমতা অনুসারে আগে খাদ্যদ্রব্যকে কমপ্লেক্স ও সিম্পল এ দুইভাগে ভাগ করা হোত, এখন গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড দিয়ে খাদ্যের গ্লুকোজ বাড়ানোর ক্যাপাসিটি নির্ণয় করা হয়। কোন একটা খাবারের যে পরিমাণে ৫০ গ্রাম কার্বহাইড্রেট থাকে এবং সেই পরিমাণ খাবার খেলে ঐ খাবার রক্তে যতটুকু গ্লুকোজ বাড়ায় তার সাথে ৫০ গ্রাম পিওর গ্লুকোজ খেলে রক্তে যে পরিমাণ গ্লুকোজ বাড়ে সেটার তুলনাই হল গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স। বলার অপেক্ষা রাখে না কোন খাবার থেকে কতটুকু ক্যালরি পাওয়া যাবে তা নির্ভর করে এ খাবারের শর্করা ও অন্যান্য জিনিসের (যেমন-ফ্যাট, প্রোটিন ইত্যাদির পরিমাণের উপর) । আলু লো ক্যালরি, লো ফ্যাট এবং ভেজিটেবল প্রোটিন, মিনারেল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। তাই সার্বিক বিবেচনায় খাদ্য হিসেবে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আলু খারাপ নয়। তবে আলু কিভাবে পরিবেশন হচ্ছে সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
আলু ও হাইপারটেনশনঃ আলুতে কুকোএ্যমিন ও কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা ব্লাড প্রেসার কমায়। ফোটানো (বয়েলড) আলুতে ভাজা (ফ্রাইড) আলুর চেয়ে এই কেমিক্যালস বেশী থাকে। আলুতে প্রায় শূন্য পরিমাণ ফ্যাট, পানি বেশী, আলু খেলে মোটা হয়ে যাবো এ ধারণা ঠিক নয়।
আলু সাশ্রয়ী, স্বাস্থোপযোগী। তাই আলু খাবার অভ্যাস করতে হবে। বেশী করে আলু খেতে হবে। মধ্যাহ্ন ভোজে অর্ধেক ভাত ও অর্ধেক আলু খাওয়া যেতে পারে। হাইব্রিড সবরীর যুগে আমরা সাগর কলাতেই স্বাদ মেটাই, আসল সবরী কলা আর খুঁজি না। আসল কথা হলো প্রয়োজন এবং বাস্তবতা সময়ের তাগিদে আমাদেরকে অভ্যাস বদলাতে হয়েছে, হবে।

কালো চকলেটের গুণ

ডির্ক টোবার্ট নামে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জার্মানির একজন গবেষক প্রমাণ করেছেন যে, পলিফেনল সমৃদ্ধ কালো চকোলেট রক্তচাপ কমায়। টোবার্ট ৫৬ থেকে ৭৩ বছর বয়স্ক ৪৪ জন রোগী বাছাই করেন তাদের রক্তচাপ বেশি ছিল। এছাড়া তাদের অন্য কোন রোগ ছিল না। কিছু রোগীকে দৈনিক ৩০ মি•গ্রা• পলিফেনলসমৃদ্ধ কালো চকোলেট দেন, যাতে ৩০ ক্যালোরি শক্তি ছিল। অন্যদের পলিফেনলবিহীন সাদা চকোলেট দেন। যাতে ৩০ ক্যালোরি শক্তি ছিল। ১৮ সপ্তাহ পর তাদের রক্তচাপ মেপে দেখা যায় যে, যারা পলিফেনলসমৃদ্ধ চকোলেট খেয়েছিল তাদের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ২ পয়েন্ট এবং সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ পয়েন্ট কমেছে। কিন্তু অপর গ্রুপের কোন উন্নতিই হয়নি। ৩০ ক্যালোরি শক্তি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। যেমন-ওজন বেড়ে যাওয়া বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই পলিফেনলসমৃদ্ধ কালো চকোলেট খারাপ নয়।

আঁশ জাতীয় খাবার কেন খাবেন

ধমনীর প্রধান শত্রু   কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ হিসাবে ‘স্ট্যাটিন’ (যেমন-সিমভাস্ট্যাটিন, প্রাভাস্টাটিনঃ) খুবই উল্লেখযোগ্য। বরার্ট উড জনসন মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, এই ‘স্ট্যাটিন’-এর সাথে তন্তু জাতীয় খাবার উপকারী। এতে করে কোলেস্টেরল হ্রাস করা সহজ। 
তারা ৬৭ জন ভলান্টিয়ারকে নিয়ে গবেষণা করে দেখেন যে, যারা দৈনিক ১০ মি•গ্রাম স্ট্যাটিন সেবন করেন তারা ৮ সপ্তাহ পর ২৯ ভাগ বাজে কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ কমাতে সক্ষম হন। অপরদিকে যারা স্ট্যাটিন এর সাথে দিনে তিনবার (মোট ১৫ গ্রাম) জাইলিয়াম ফাইবার গ্রহণ করেন তারা একই সময়ে প্রায় ৩৮ ভাগ ‘এলডিএল’ কমাতে সক্ষম হন। শুধু স্ট্যাটিন খেয়ে এই পরিমাণ কোলেস্টেরল কমাতে চাইলে দ্বিগুণ পরিমাণ ওষুধ খেতে হবে। তন্তু জাতীয় খাবার কোলেস্টেরলের সাথে বন্ধন তৈরি করে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। জাইলিয়াম তন্তু পাওয়া যায়- ওট, বাদাম, বার্লি, আপেল ইত্যাদিতে। 

সকালের নাস্তায় কি রাখবেন


সারাদিন কাজ আর কাজ, উদয়া‘ খাটুনি, হাতে সময় নেই, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অগ্রাধিকার পায় না। কোনও কোন দিন অনেক বেলা ভরপেট খাওয়া হয় না, চটজলদি হালকা নাস্তা হয়। তবে নাস্তাটি স্বাভাবিক হলেই হলো। দু’বেলা আহারের মধ্যে যদি ক্ষুধা লাগে, তাহলে শরীরে পুষ্টি চাই, বোঝা গেলো। তাই ক্ষুধা মেটাতে কিছু একটা মুখে দিতে হয়। উল্টোপাল্টা নাস্তা খেলে কিন্তু সমস্যা। নাস্তায় যদি বেশি চর্বি ও শর্করা থাকে তাহলে রক্তে পরবর্তীতে কোলেস্টেরোল বাড়ে, ওজন বাড়ে শরীরে, পরবর্তীতে হতে পারে নানা জটিলতা যেমন হৃদরোগ, উঁচুমান কোলেস্টেরোল এবং ডায়েবেটিস। সুসংবাদ হলো এই যে আজকাল স্বাস্থ্যকর খাবার সম্বন্ধে এত সচেতন হয়েছে মানুষ সেজন্য অনেক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লোফ্যাট লোশর্করা খাবার তৈরি করছে যা স্বাদে আসল জিনিসের একই রকম।
'grazing for food'  খাদ্য চয়ন যখন করবেন তখন কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে-
খাবেন প্রচুর ফল ও শাক-সবজিঃ এতে ক্যালেরি ও চর্বি কমে। এছাড়া এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন ও অন্যান্য এন্টিঅক্সিডেন্ট।
সম্পৃক্ত চর্বির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবেঃ যত কম সম্ভব, সম্পৃক্ত চর্বি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ এরকম চর্বি বেশি খেলে রক্তে বাড়ে কোলেস্টেরোল। তেলে ঘিয়ে ভাজা খাবার, প্রাণীজ চর্বিতে রয়েছে সম্পৃক্ত চর্বি। সে বিবেচনায় কচি মোরগ, মাছ এগুলো লাল গোস্ত থেকে অনেক ভালো।
যে খাদ্য রান্না হচ্ছে সেদিকেও নজর রাখুনঃ
আংশিক হাইড্রোজিনেটেড উদ্ভিজ্জ তৈল, যা মার্জারিন ও শর্টেনিং-এ ব্যবহৃত হয়, এতে এক ধরনের চর্বি থাকে একে বলে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড। এগুলো খাওয়া এড়ানো উচিত, কারণ এতে রক্তে বাড়ে কোলেস্টেরোল। ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন কুকিস, চিপস ও ক্যান্ডিস-এ এসব চর্বি পাওয়া যায়।
খাবারে যেসব তরল সস্‌ ছড়ানো হয়, সেগুলো কেমন হবেঃ স্যালাড ড্রেসিং সস বা যেসব তরলে খাবার ডুবিয়ে খাওয়া হয়, সেগুলোতে যেন চর্বি থাকে খুব কম। সেই সস খাবারের উপর না ঢেলে পাশে রাখা ভালো। এতেও এসব কম খাওয়া হবে। দুধজাত প্রিয় খাদ্যের মধ্যে যেগুলোতে চর্বি কম সেগুলো খাওয়া ভালো। এতে চর্বি কম খাওয়া হবে। যেমন ফুলক্রিম দুধ বা দধির বদলে লোফ্যাট দধি বা ক্রিম ছাড়া দুধ ভালো।
শ্বেতসার হলো শক্তির গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত উৎসঃ এগুলো শরীরে শর্করায় পরিণত হয়, তাই বেশি বেশি শ্বেতসার খেলে দেহে ওজন বাড়ে এবং রক্তে বাড়ে শর্করা, বিশেষ করে ডায়েবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে তো বটেই। এছাড়া আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে খুব বেশি শ্বেতসার খেলে হিতকরী কোলেস্টেরোল এইচডিএল রক্তে হ্রাস পায়। গোটা শস্য যেমন গমের রুটি, জইচূর্ণ এতে ময়দা কম, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ কম। বাদাম, বীজ এসবও ভালো নাস্তা তবে এতে যেন নূন না থাকে। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর অসম্পৃক্ত চর্বি, যা রক্তের কোলেস্টেরোল কমাতে সহায়ক। বাদাম, আখম্স্নোট এতে রয়েছে ওমেগা-৩ মেদা, যা ক্ষতিকর এলডিএল কমাতে পারে আবার হিতকরী এইচডিএল বাড়াতে পারে। লাউয়ের বীচি এবং সূর্যমুখীর বীজ এগুলোতে আছে ভিটামিন ই, বি ভিটামিন ও খনিজ। নিবন্ধটি পড়ে মনে হবে যে খাবারে এত বিকল্প আছে, তত বৈচিত্র্য রয়েছে খাবারের মধ্যে এগুলো চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি কি? কেন খাবো ফাস্টফুড, তেলেভাজা, নোংরা ইটালিয়ান রেস্তোরাঁর পাশে নর্দমার উপর বসে কেন এসব ঝালমুড়ি, ফুচকা, তেলেভাজা মোগলাই খাওয়া? কেবল হ্নৎপিণ্ড কেন, দেহের পুরোটাই সুস্থ রাখা তো উচিত।
**************************
অধ্যাপক ডাঃ শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা

বাল্য ও কৈশোরে পুষ্টি


বাল্য ও কৈশোর এ দুটো সময়ই শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। জন্মের পর থেকেই ছোট শিশুটির যে দ্রুত বর্ধন প্রক্রিয়া আমরা দেখি তা ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। সুতরাং এ সময়টাতে শিশুর দেহে পুষ্টির চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশি থাকে। এ সময়টাতে মানসিক বিকাশ পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না যার ফলে সে এ বয়সটাতে নিজেকে নিয়ে খুব একটা সচেতন থাকে না এবং সে তার শরীরের নূন্যতম পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে ব্যার্থ হয়। যার ফলে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়, নানারকম সংক্রামক রোগের শিকার হয় এবং অনেক সময় তাকে সমস্ত জীবনই রুগ্ন ও দুর্বল দেহের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।
এক্ষেত্রে শিশুর চেয়ে মা-বাবার দায়িত্ব বেশি। তাদের এ বয়সী শিশুদের খাদ্যের ব্যপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
মেয়েদের ১১-১৩ বছর এবং ছেলেদের ১৩-১৫ বছর বয়সে বৃদ্ধি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হয়। দেহের পুষ্টির চাহিদা সকল শিশুর ক্ষেত্রে একরকম নয়। ছেলে-মেয়েভেদে, বয়সভেদে অনেক সময় একই বয়সের হলেও আকৃতিগত পার্থক্যের দরুন পুষ্টি চাহিদা কমবেশি হতে পারে। যার দেহের বৃদ্ধি যত দ্রুত হয় তার খাদ্যের চাহিদা তত বেশি হয়। খাদ্যের উপর দেহের গঠন ও বৃদ্ধি যে কতখানি নির্ভর করে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাড়ন্ত বয়সী ছেলে-মেয়েদের খাদ্যে অবশ্যই কিছু গুণাবলী থাকতে হবে যা তার সকল চাহিদা পূরণ করে দেহের দ্রুতগঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
০ খাদ্যকে কর্মশক্তি যোগাবার মত ক্যালরিবহুল হতে হবে।
০ ক্ষয়পূরণ ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি পর্যাপ্ত পরিমাণে হতে হবে।
০ যেহেতু এ সময় হাড় ও দাঁতের গঠন হয় এ জন্য এ সময় পর্যাপ্ত খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন ডি সম্পন্ন খাবার দিতে হবে।
আমাদের দেশে এই বয়সী ছেলে-মেয়েরা যে সকল পুষ্টি উপাদানের অভাবে ভোগে তার মধ্যে প্রেটিন, ক্যালসিয়াম, লোহা ও ভিটামিন এ প্রধান। যার প্রধান কারণ দারিদ্র্যতা, খাদ্য চাহিদা সম্পর্কে অজ্ঞতা, খাবারের প্রতি অনিহা। বা অরুচি এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে বেশি সময় কাটায় ফলে যে টিফিন খায় তা যথসামান্য। ১০-১২ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েদের খাদ্যে প্রতিদিন ৩২০ গ্রাম খাদ্যশস্য, ৬০ গ্রাম ডাল, ১০০ গ্রাম ফল, ৫০ গ্রাম দুধ, ২০০ গ্রাম মাছ মাংস ও ১৩০ গ্রাম তেল বা ঘি থাকা প্রয়োজন। খাদ্যে এগুলোর উপাদান এর পরিমাণ কম হলে তা ক্ষতি সাধন করতে পারে।
এ ছাড়া বাচ্চারা খেতে না চাইলে প্রয়োজন বোধে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল দেয়া যেতে পারে তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই বয়সের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মনে রাখবেন, এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের খাদ্যের প্রতি আসক্তি কম থাকে কিন্তু দেহে খাদ্য চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়েও বেশি থাকে।

তুলসী পাতার অনেক গুণ

জ্বর হলে জলের মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করুন৷ অথবা তিনটে দ্রব্য মিশিয়ে বড়ি তৈরি করুন৷ দিনের মধ্যে তিন-চার বার ঐ বড়িটা জলের সঙ্গে খান৷ জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে৷
* কাশি যদি না কমে সেই ক্ষেত্রে তুলসী পাতা এবং আদা পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান৷ এতে উপকার পাবেন৷
* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে 4-5 বার তুলসী পাতা চেবান৷...
* ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান কমে যাবে৷
* শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷
* ত্বকের চমক বাড়ানোর জন্য এছাড়া ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোনো দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান৷
* বুদ্ধি এবং স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন 5-7 টা তুলসী পাতা চিবান৷