Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.

Showing posts with label মানব দেহ. Show all posts
Showing posts with label মানব দেহ. Show all posts

লিচুর কিছু অজানা তথ্য!

লিচু: by bd health tips
. চীনারা লিচুকে ভালোবাসা ও রোমান্সের ফল হিসেবে মর্যাদা দেয়। তাদের বিশ্বাস, যারা লিচু মুখে পুরবে, তারাই এর প্রেমে পড়বে।
. লিচুতে রয়েছে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও প্রোটিন। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর ৬৬ ভাগই হলো ক্যালরি।
. এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। খাদ্য হজমকারী আঁশ, ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে জমা করে।
. লিচুতে রয়েছে অলিগোনল নামের এক ধরনের উপাদান। একে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপাদান রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, ত্বকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমায়।
. লিচু ক্যান্সার থেকে মানবদেহকে দেয় সুরক্ষা। এটি ক্যান্সার তৈরিকারী কোষ ধ্বংস করে। এতে অবস্থিত ফ্ল্যাভনয়িডস বা ভিটামিন ‘পি’ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
. শরীর সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ‘সি’। লিচুতে এ ভিটামিন রয়েছে প্রচুর; যা ত্বক, হাড় এবং কোষের সজীবতা রক্ষা করে। হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ভিটামিন ‘সি’ অব্যর্থ বলেই বিবেচিত।
. ভিটামিন ‘বি’-এর মজুতঘর হিসেবে লিচুকে ধরা হয়। থিয়ামিন, নিয়াসিন নামের ভিটামিনগুলো লিচুকে করেছে আরো বেশি কার্যকর। এসব ভিটামিন শরীরের বিপাক ক্ষমতা বাড়ায়।
. এতে অবস্থিত পটাসিয়াম এবং খনিজের মতো উপাদান হূদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

লিভার ক্যান্সার

লিভার কী: লিভার মানব দেহের অতি গরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। বাংলায় যাকে আমরা কলিজা বলি। লিভারের অবস্থান হচ্ছে পেটের উপর ভাগের ডানদিকে। এর ওজন প্রায় দেড় কেজির মত। লিভার দেহের সব প্রকার খাদ্যে মেটাবিলিজম-এ সাহায্য করে। আমরা প্রতিদিন যে খাদ্য গ্রহণ করি তা লিভারের মাধ্যমে শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সরবরাহ হয়।

লিভার ক্যান্সার: লিভার ক্যান্সার সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি প্রাইমারি ক্যান্সার ও অন্যটি সেকেন্ডরি ক্যান্সার। প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার লিভার সেল থেকে উৎপত্তি হয়। ক্যান্সার শরীরের অন্য কোন অঙ্গ বা অন্ত্র যেমন-পাকস্থলীক্ষুদ্র বা বৃহৎ অন্ত্রকিডনি ও ফুসফুস থেকে লিভারে ছড়িয়ে পড়লে তাকে সেকেন্ডারি ক্যান্সার বলে।

লিভার ক্যান্সা কেন হয়: আমাদের দেশে লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে: হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে এ দেশে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত শতকরা ৭০ জন রোগীই হেপাটাইটিস জনিত রোগে ভূগছে। এর পরেই রয়েছে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ও ফ্যাটি লিভারের অবস্থান। পাশাপাশি রয়েছে এলকোহলমাঝে মাঝে অটোইমিউন হেপাটাইটিসের মত অখ্যাত রোগগুলোতে রয়েছেই। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে ভুগছেনএমন শতকরা ৫ জন লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ও ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটি যথাক্রমে ২০ ও ৩০ জন। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের এ রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা বেশি। তবে চিকিৎসা করতে গিয়ে আমরা শিশুদের মধ্যেও হেপাটাইটিস বি জনিত লিভার ক্যান্সার খুঁজে পাই।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ: যে কোনো বয়সের মানুষই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের ৪ থেকে ৬ গুণ বেশি। সাধারণত: ক্যান্সার হবার আগে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। তবে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্তরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নিচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন। যার তীব্রতা রোগীভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়াপেট ফাঁপাওজন কমে যাওয়ার সাথে হালকা জ্বর জ্বরভাব এরোগের অন্যতম লক্ষণ। লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে নাথাকলেও তা খুব অল্প। খাওয়ার অরুচিঅতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার কমপেস্নন থাকতে পারে। আবার কখনো দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতে পারেআবার নাও থাকতে পারে।

লিভ্যার ক্যান্সার নির্ণয়: লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ের সহজ উপায় হচ্ছে একটি নির্ভরযোগ্য আল্ট্রাসনোগ্রাম। তবে কখনো কখনো সিটি স্ক্যানেরও প্রয়োজন হতে পারে। রক্তের অঋচ পরীক্ষাটি লিভার ক্যান্সারের একটি মোটামুটি নির্ভরযোগ্য টিউমার মার্কার। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যে কোনো মানুষেরই উচিৎ প্রতি ৬ মাসে একবার এএফপি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করানো। তবে লিভার ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস নিশ্চিত হতে হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডেড এফএনএসি অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবেঅভিজ্ঞ হাতে করা এ পরীক্ষার সাফল্যের হারও প্রায় শতভাগ।

চিকিৎসা পদ্ধতি:লিভার ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হচ্ছে- কেমোথেরাপিটিউমার অ্যাবলেশনরিসেকশন ও লিভার প্রতিস্থাপন। ফাইভ ফ্লরোইউরাসিলডক্সেরুবিসিন আর টেমোক্সিফেনের মত কোমোথেরাপির ওষুধগুলো দীর্ঘদিন থেকে মন্দের ভালো হিসেবে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। যদিও এদের কার্যকারিতা তেমন সুখকর নয়। বেশ ক'বছর থেকে বাজারে আছে কেপসসিটাবিন।

সম্প্রতি এ তালিকায় যোগ হয়েছে-সুরাফেনিব। এ ওষুধ দুটি মুখে খেতে হয় বিধায় রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। এর পাশর্্বপ্রতিক্রিয়াও খুবই কম। আগের ওষুধের তুলনায় কার্যকারিতাও বেশি। তবে সমস্যা হচ্ছে-এ ওষুধগুলো বেশ দামী। পাশাপাশি সুরাফেনিব বাংলাদেশে খুব বেশি সহজলভ্যও নয়।

এছাড়াও লিভার ক্যান্সারের আশাব্যঞ্জক দু'টো চিকিৎসা পদ্ধতি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ও পারকিউটেনিয়াস অ্যালকোহল ইঞ্জেকশন। এদুটো পদ্ধতির বেসিক একই। উভয় ক্ষেত্রেই ক্যান্সারকে দেহের বাইরে থেকে গাইডেড প্রবের মাধ্যমে পুড়িয়ে ছোট করে আনা হয়। এর মধ্যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনে আউটকাম পার কিউটেনিয়াস অ্যালকোহল ইঞ্জেকশনের তুলনায় সামান্য ভাল হলেও এর সীমাবদ্ধতা অনেকগুণ বেশি। প্রথমত এটি সাত থেকে আট গুণ বেশি দামী। দ্বিতীয়ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের জন্য যেসব বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়েতা খুবই দামী এবং আমাদের দেশে দুর্লভ। টিউমারের সাইজ খুব বড় না হলে আর রোগীর শারীরিক অবস্থা সব মিলিয়ে ভাল থাকলে অপারেশন করে টিউমার ফেলে দেয়া খুবই কার্যকর। আর এজন্য প্রয়োজনীয় কুসা মেশিনদক্ষ হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন আমাদের দেশে আছেন।

লিভারের যত অসুখ


লিভার শরীরের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। আকৃতিতে যেমন বৃহৎ, প্রয়োজনীয়তার দিক থেকেও এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকেসুখে রাখতে দরকার সুস্থ লিভার। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত লিভার আমাদের জীবনে বয়ে নিয়ে আসে দুঃখ, কষ্ট এমনকি অকালে প্রস্থান। অন্য যে কোন যন্ত্র বা মেশিনের মত আমাদের দেহ যন্ত্রও চলে শক্তির সাহায্যে। এ শক্তি আসে খাদ্য থেকে। আমরা যেরূপে খাবার খাই তা থেকে সরাসরি শক্তি উৎপন্ন হতে পারে না। জটিল খাবার লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে শক্তি উৎপাদনের উপযোগী হয়ে জমা থাকে এবং প্রয়োজন মাফিক শরীরের কোষে কোষে পৌছে শক্তি উৎপাদন করে। তাই লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউজ। শুধু তাই নয়, শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন দুষিত পদার্থ লিভার বিশুদ্ধ করে এবং পরবর্তীতে শরীর থেকে বের করার ব্যবস্থা করে। অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভাবে শরীরে কোন বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করলে লিভার সেটিকে বিষমুক্ত করে। বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন জাতীয় পদার্থ তৈরী করে যা শরীরের জন্য অপরিহার্য।
লিভারের যত রোগঃ
গুরুত্বপূর্ন এই অঙ্গটি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিছু রোগ বংশগত (ওহযবৎরঃবফ), কিছু রোগ অর্জিত (অপয়ঁরৎবফ)। কিছু রোগ স্বল্পস্থায়ী এবং পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়; কিছু রোগ দীর্ঘস্থায়ী, যা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে কেড়ে নেয় জীবন-এমনকি চিকিৎসা করা সত্ত্বেও। হেপাটাইটিস বা লিভারে প্রদাহ বিশ্ব জুড়ে লিভারের প্রধান রোগ। নানা কারনে এই প্রদাহ হতে পারে। যার অন্যতম কার এ,বি,সি,ডি,ই, নামক হেপাটাইটিস ভাইরাস। পানি ও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস লিভারে একিউট হেপাটাইটিস বা স্বল্প স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস। অনেক কারনেই লিভারের প্রদাহ হতে পারে। ভাইরাস ছাড়া ও অতিরিক্ত এলকোহল পান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া, বিভিন্ন ড্রাগ ও কেমিক্যালস হেপাটাইটিস করে থাকে। অটোইমিউন হেপাটাইটিস, উইলসন্স ডিজিজ সহ বিভিন্ন অজানা কারণ জনিত রোগ ও বংশগত রোগে লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
যে কারণেই প্রদাহ সৃষ্টি হউক না কেন, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস বছরের পর বছর চলতে থাকলে লিভারের কোষগুলো মরে যায়। অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় ফাইব্রাস টিসু সেস্থান দখল করে জন্ম দেয় সিরোসিস নামক মারাত্মক রোগ। সিরোসিস হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমনই লিভার সিরোসিসের প্রধান কারন। উন্নত বিশ্বে এ স্থান দখল করে আছে অতিরিক্ত মদ বা এলকোহল পান জনিত হেপাটাইটিস। এছাড়া সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসা ফ্যাটি লিভার, লিভারের সিরোসিসের অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের দেশে সিরোসিসের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসাবে এটি দায়ী বলে ধারনা করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস, রক্তের চর্বির উচ্চমাত্রা প্রভৃতি কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মত লিভারেও ফ্যাট জমে ফ্যাটি লিভার হয়।
এছাড়া ব্যাকটেরিয়া এবং প্যারাসাইট লিভারে এ্যাবসেস বা ফোঁড়া তৈরী করতে পারে। সর্বোপুরি প্রাণঘাতি ক্যান্সার ও ভর করতে পারে লিভারে। সিরোসিস যাদের হয় তাদের এ ক্যান্সার হওয়ার প্রবনতা সবচেয়ে বেশি।
হেপাটাইটিস ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়ঃ
দুষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়ায়। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও বড়দের জন্ডিস এর প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই ভাইরাস। ঘরের বাহিরে-আমরা যখন থাকি, তখন খোলা খাবার, পানি, ফলের রস ইত্যাদির উৎস ও বিশুদ্ধতা যাচাই না করে ক্ষেতে অভ্যস্ত অনেকেই। এতে আক্তান্ত হই জন্ডিসে। তাছাড়া শহরে পানি সরবরাহ লাইনে ভাইরাসের সংক্রমন হয়ে জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও নতুন কিছু নয়। তাই ফুটিয়ে পানি খাওয়া আর বেছে বুঝে খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। এতে শুধু হেপাটাইটিস এ এবং ই নয় টাইফয়েড আর ডায়ারিয়ার মত আরো অনেক পানি বাহিত রোগ থেকে বাঁচা যাবে।
রক্ত ও ব্যক্তিগত অনৈতিক আচরনের মাধ্যমে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস। দুষিত রক্ত গ্রহণ বা দুষিত সিরিজ ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকেই নিজের অজান্তে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। একই শেভিং রেজার, ব্লেড কিংবা খুর ব্যবহারের মাধ্যমে এ দুটি ভাইরাস ছড়াতে পারে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের সন্তানের জন্মের পর পর বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। তবে মায়ের দুধের মাধ্যমে বি ভাইরাস ছড়ায় না। সামাজিক মেলামেশা যেমন হ্যান্ডশেখ বা কোলাকোলি এবং রোগীর ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন গ্লাস জামা কাপড় ইত্যাদির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না।
কিভাবে বুঝবেন আপনার হেপাটাইটিস হয়েছে কি না?
একিউট হেপাটাইটিসে ক্ষুধামন্দা, শরীর ব্যাথা, বমির ভাব কিংবা বমি এবং কিছু দিনের মধ্যে প্রস্রাবের রং ও চোখ হলুদ বর্ন ধারন করে। এ সময় শরীরে চুলকানী দেখা দিতে পারে। জন্ডিস ক্রমে বেড়ে যেয়ে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ক্রনিক হেপাটাইটিস বা সিরোসিসের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশির ভাগ রোগীর উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। কেউ কেউ দুর্বলতা, অবসন্নতা বা ক্ষুধামন্দা অনুভব করতে পারে। হেপটাইটিস বি ও সি অনেকাংশই নিরাময় যোগ্য রোগ হলেও অ্যাডভ্যান্সড লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগী প্রায়ই কোন শারীরিক অসুবিধা অনুভব করে না। এসব রোগিদের পেটে পানি জমে পেট ফুলে যেতে পারে, রক্ত বমি বা কাল পায়খানা কিংবা অজ্ঞান হয়ে জীবন ঝুকির সম্মখিন হতে পারে। এ সময় শরীর জীর্ন শির্ন হয়ে যায়। আমাদের দেশে অনেকে বিদেশে যাওয়ার প্রক্কালে রক্ত পরীক্ষার সময়, কিংবা রক্ত দিতে গিয়ে বা ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে অনেকেই হেপাটাইটিস বি ইনফ্যাকশনের কথা প্রথম জানতে পারেন।
লিভারের রোগ হলে কি করবেনঃ
লিভারের রোগীর কোন উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে অথবা আপনার শরিরে ভাইরাসের সংক্রমন নিশ্চিত হলে দেরী না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে সব চেয়ে ভাল হয় লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। তিনি আপনার রোগ নির্ণয় করে এর কারণ, রোগের জন্য সৃষ্ট জটিলতা এবং রোগের বর্তমান অবস্থা জেনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উপদেশ দিবেন। হেপাটাইটিস এ ও ই জনিত রোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাল হয়ে যায়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮% গর্ভবতী মা মারা যায়। যখন শেষ তিনমাসের সময় মা তীব্রভাবে হেপাটাইটিস ই প্রদাহে ভোগেন। অন্যদের ক্ষেত্রে জীবন সংহারী একিউট হেপাটিক ফেইলিউর নামক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জন্ডিস কে কখনও অবহেলা করবেন না। ক্রনিক হেপাটাইটিসের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি এর বিরুদ্ধে কার্যকর ঔষধ গুলির সবই এখন আমাদের দেশে পাওয়া যায়। তাই এ ক্ষেত্রেও হতাশ না হয়ে লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
লিভার রোগ প্রতিরোধে আপনার করণীয়ঃ
০ হেপাটাইটিস বি এর টীকা নিন
০ ঝুঁকিপূর্ণ আচারণ যেমন-অনিরাপদ যৌনতা, একই সুঁই বা সিরিন্‌জ বহুজনের ব্যবহার পরিহার করুন।
০ নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন ও ডিজপজেবল সুঁই ব্যবহার করুন। ব্লেড, রেজার, ব্রাশ; খুর বহু জনে ব্যবহার বন্ধ করুন।
০ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রন করুন।
০ শাক সবজি ও ফলমূল বেশি করে খান আর চর্বি যুক্ত খাবার কম খান।
০ মদ্যপান ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন।
০ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার গ্রহন করুণ।
০ ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
০ পরিস্কার পরিছন্ন থাকুন।
শেষ কথাঃ মানুষের দেহে লিভার মাত্র একটিই আছে এবং জীবন ধারনের জন্য এটি অপরিহার্য। তাই লিভারের অসুস্থতার ফলাফল ক্ষেত্র বিশেষে হতে পারে ব্যাপক ও ভয়াবহ। তবে লিভারের রোগ মানেই সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ন নিরাময় এবং অনিরাময় যোগ্য জটিলতা মুক্ত মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবে জীবন নির্বাহ করা যায়।

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হলে করণীয়

মানবদেহের পা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পা না থাকলে মানুষ হাঁটতে পারে না, তেমনি পায়ে ব্যর্থ থাকলেও হাঁটতে খুবই অসুবিধা হয়। আর চলাফেরা যিনি করতে পারেন না, তিনি তো পঙ্গু বৈ আর কিছুই নয়। মানবদেহের পায়ের প্রধান দু’টি অংশ হলো গোড়ালি ও পায়ের পাতা। পায়ের গোড়ালিতে যেসব কারণে ব্যথা হয় তার মধ্যে ক্যালকেনিয়ান স্পারই বেশি দায়ী। তা ছাড়া পায়ে কোনো আঘাত লাগলে বা পায়ের হাড় ভেঙে গেলে ব্যথা হয়। ক্যালকেনিয়ান স্পার থেকে অনেক সময় প্রদাহ হয়ে প্লাস্টার ফাসাইটিস হতে পারে। তা ছাড়া গেঁটেবাত, ওস্টিওমাইলাইটিস, স্পন্ডাইলোঅর্থোপ্যাথি ইত্যাদি রোগে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। তবে বয়স বাড়লে ক্যালকেনিয়ান স্পার বা কাটার কারণেই বেশি হয় পায়ে ব্যথা। এ রোগের উপসর্গগুলো নিম্নরূপঃ 

-পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা। ব্যথা সাধারণত হাঁটলে বেড়ে যায়। 
- গোড়ালি কখনো কখনো ফুলে যেতে পারে। 
- খালি পায়ে শক্ত জায়গায় হাঁটলে সাধারণত ব্যথা বেশি বাড়ে। 
- প্লাস্টার ফাসাইটিস হলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা সকালে বেশি থাকে এবং তা বেলা বাড়ার সাথে সাথে একটু কমে আসে। 
- কখনো কখনো গোড়ালি শক্ত শক্ত মনে হয়। 
- শক্ত জুতা ব্যবহার করলেও ব্যথা বেড়ে যায়। 

চিকিৎসা 
সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ যেমন­প্যারাসিটামল, ইন্ডোমেথাসিন, নেপ্রক্সিন ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুসারে ফিজিক্যাল থেরাপি, যেমন­ মোম থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে। জুতার পরিবর্তন যেমন­ নরম সোল ব্যবহার করা, আর্চ সাপোর্ট দেয়া, গোড়ালির কাছে ছিদ্র করে নেয়া ইত্যাদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন করে ক্যালকেনিয়ান স্পার বা কাটা কেটে ফেলতে হয়। 

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা রোগীর জন্য উপদেশ 
- সব সময় নরম জুতা ব্যবহার করবেন। 
- শক্ত স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না বা হাঁটবেন না। 
- ভারী কোনো জিনিস, যেমন­বেশি ওজনের বাজারের থলি, পানিভর্তি বালতি ইত্যাদি বহন করবেন না। 
- সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাতে সাপোর্ট দিয়ে ধীরে ধীরে উঠবেন ও নামবেন এবং যথাসম্ভব গোড়ালির ব্যবহার কম করবেন। 
- ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার ব্যায়াম নিষেধ। 
- হাই হিল জুতা ব্যবহার করা নিষেধ। 
- মোটা ব্যক্তিদের শরীরের ওজন কমাতে হবে। 
- মালিশ ব্যবহার করবেন না। 
এসব পরামর্শ মেনে চললে একজন সুস্থ মানুষও এ রোগ থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই আসুন, আমরা সবাই এগুলো মেনে চলি এবং পায়ের সমস্যা থেকে দূরে থাকি।

হাতের কব্জির ব্যথা

নানা কারণে হাতের কব্জিতে ব্যথা হতে পারে, যেমন- আঘাত পাওয়া, দীর্ঘক্ষণ কব্জির মাধ্যমে কোন কাজ করা, ডিকোয়ারবেইনস ডিজিজ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাঁউট ও অন্যান্য বাতজাতীয় রোগ। এসব রোগে কব্জিতে ব্যথা ছাড়াও অন্য জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। ডান হাতের কব্জিতে ব্যথা হলে লিখতে এমনকি খেতেও অসুবিধা হয়। বাতজাতীয় রোগে হাতের কব্জিতে ব্যথা হলে তা সাধারণত বিশ্রাম নিলে ও সকালে বেড়ে যায়, কাজ করলে কিছুটা কমে আসে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বাত রোগটি নির্নয় করা জরুরি ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা দরকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কব্জিতে ব্যথা হলে তা সাধারণত বিশ্রাম নিলে কমে, কাজ করলে বাড়ে। সবক্ষেত্রেই কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিতে হবে। তবে সাধারণভাবে নিম্নলিখিত চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। 
প্রথমত আক্রান্ত হাতের কব্জিকে বিশ্রামে রাখতে হবে। 

যদি কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণে কব্জিতে ব্যথা হয়ে থাকে তবে তার উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে। 

ব্যথানাশক অষুধ, যেমন- প্যারাসিটামল বা এনএসএআইডি দেয়া যেতে পারে। এনএসএআইডি ট্যাবলেট হিসেবে মুখে খাওয়া ছাড়াও এনএসএআইডি জেল আক্রান্ত স্থানে লাগান যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই জেল দিয়ে মালিশ করা যাবে না। 
ফিজিক্যাল থেরাপি হিসেবে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি বা ফোনোফরোসিস ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। 

অল্প গরম পানিতে হাতের কব্জিকে ডুবিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে নড়াচড়া করালেও বেশ উপকার হয়। 

আক্রান্ত কব্জির সাহায্যে কাপড় ধোয়া বা মোচরানো, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা, টেনিস খেলা ইত্যাদি কাজ অর্থাৎ যে কাজ করতে হলে হাতের কব্জিকে বারবার ঘুরাতে হয় সে ধরনের কাজ করা যাবে না। 

া আক্রান্ত হাতের কব্জিকে নড়াচড়া করা থেকে কিছুটা রক্ষা করার জন্য রিস্ট ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। 

এভাবে চিকিৎসা করালে ও নিয়ম মেনে চললে হাতের কব্জির ব্যথা হতে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ নিজের হাতে ব্যথাহীনভাবে করা সম্ভব হবে

বয়স্কদের কোমর ব্যথা


কোমরে ব্যথার কারণ অনেক। নড়াচড়া বা চলাফেরা করার সময় কোমরের অবস্থান সঠিক না থাকলে কোমরে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে কোমরে ব্যথা বয়স বাড়লে সাধারণত লাম্বার স্পনডাইলোসিসের জন্য হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সূত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীল পরিবর্তনসাধিত হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে।

রোগের উপসর্গ কোমরে ব্যথা। প্রথম দিকে এ ব্যথা কম থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে এ ব্যথা কিছুটা কমে আসে। ­কোমরে সামান্য নাড়াচাড়া হলেই এ ব্যথা বেড়ে যায়। 
অনেক সময় ব্যথা পায়ের দিকে নামতে পারে এবং অবশ ভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতিও হতে পারে।

কোমরের মাংসপেশি কামড়ানো ও শক্ত ভাব হয়ে যাওয়া­ এ ধরনের উপসর্গও রোগে দেখা দিতে পারে।

প্রাত্যহিক কাজে, যেমন­ নামাজ পড়া, তোলা পানিতে গোসল করা, হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদিতে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়।

কোমরের ব্যথা রোগের চিকিৎসা
বিশ্রামঃ 
এ রোগী শক্ত ও সমান বিছানায় বিশ্রামে থাকবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশ্রামে ব্যথা উপশম হয়। ব্যথা উপশমক ওষুধ ব্যথা থাকা অবস্থায় এবং মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ দেয়া যেতে পারে। সব ক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক নিয়মে ওষুধ খেতে হবে।

ফিজিক্যাল থেরাপিঃ 

ক) বিভিন্ন প্রকার তাপ এ রোগে চিকিৎসকরা প্রয়োগ করে থাকেন। যেমন­ ডিপ হিট সুপারফিসিয়াল হিট রোগীর কোন অবস্থায় কোন ধরনের থেরাপি প্রয়োগ করতে হবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ধারণ করে দেন।
খ) লাম্বার ট্রাকশনঃ লাম্বার ট্রাকশনে সাধারণত ২৫-৫০ পাউন্ড ওজন দেয়া হয়। তবে রোগীর অবস্থা, ওজন, বয়স ও পুরুষ/মহিলা ভেদে ওজন কম-বেশি হয়। লাম্বার ট্রাকশন বিশেষ সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের (ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ অনুযায়ী দেয়া উচিত।
গ) লোকাল স্পাইনাল সাপোর্টঃ কোমরের ব্যথায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা লোকাল স্পাইনাল সাপোর্ট হিসেবে কোমরের বেল্ট বা করসেট ব্যবহার করতে উপদেশ দিয়ে থাকেন। লাম্বোসেকরাল করসেট শুধু চলাফেরা ও কাজের সময় ব্যবহার করা উচিত।
ঘ) ইলেকট্রোথেরাপিঃ ইলেকট্রোথেরাপি হিসেবে ট্রান্সকিউটেনাস ইলেকট্রিক নার্ভ স্টিমুলেশন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে রোগীর অবস্থা ও প্রকারভেদে চিকিৎসকরা এসব চিকিৎসা প্রয়োগের উপদেশ দিয়ে থাকেন।

ব্যায়ামঃ 
কোমরে ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম দেয়া হয়। এ ধরনের ব্যায়াম রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে দিয়ে থাকেন।
ক) ব্যায়াম মাংসপেশির স্পাজম বা কামড়ানো কমিয়ে দিয়ে ব্যথামুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
খ) এ ব্যায়াম বিভিন্ন মাংসপেশির দুর্বলতা দূর করে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
গ) এই ব্যায়াম মাংসপেশির শক্ত ভাব দূর করে সাধারণ শিথিল ভাব আনতে সাহায্য করে।
ঘ) এ ব্যায়াম বিভিন্ন মাংসপেশির মধ্যে সমতা এবং নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ঙ) এ ধরনের ব্যায়াম মাংসপেশির সাধারণ চরিত্র ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে এ চিকিৎসা সর্বদা একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নেয়া উচিত।

কোমরের ব্যথা রোগীর জন্য কিছু পরামর্শঃ কাজ করার সময় করসেট ব্যবহার করুন।
সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাবেন।
কোনো জিনিস তোলার সময় সোজা হয়ে বসে তুলবেন।
চেয়ারে বসার সময় ঘাড় ও পিঠ সোজা রেখে বসবেন।
ফোমের বিছানায় ঘুমাবেন না এবং ফোমের (নরম সোফা) সোফায় অনেক্ষণ বসবেন না।
একই সাথে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকবেন না।
ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।
ভারী কোনো জিনিস, যেমন­ বেশি ওজনের থলি, পানিভর্তি বালতি ইত্যাদি বহন করবেন না।
পিঁড়িতে বসে কোনো কাজ যেমন­ মাছ কাটা, শাকসবজি কাটা ইত্যাদি করবেন না।
টিউবওয়েল চেপে পানি উঠাবেন না।
ঝরনায় অথবা সোজা হয়ে বসে তোলা পানি দিয়ে গোসল করবেন।
সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধীরে ধীরে উঠবেন ও নামবেন।
হাই হিল জুতা ব্যবহার পরিহার করুন।
মোটা ব্যক্তিদের শরীরের ওজন কমাতে হবে।
যানবাহনে চড়ার সময় সামনের আসনে বসবেন, কখনো দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
ঘুম থেকে ওঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে উঠবেন।

বার্ধক্য রোধে হরমোনের ভূমিকা


হরমোন হচ্ছে শক্তিশালী কিছু কেমিক্যাল, যা আমাদের দেহের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে সহায়তা করে। আমাদের দেহে প্রাকৃতিকভাবেই হরমোন উৎপন্ন হয় এবং বিভিন্ন উপায়ে দেহে প্রভাব বিস্তার করে।
তবে কিছু কিছু হরমোনের মাত্রা বয়সকালে কমতে থাকে অথবা আমাদের দেহও পর্যাপ্ত হরমোন উৎপন্ন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। সেসব ক্ষেত্রে বাইরে থেকে হরমোন প্রয়োগ কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত কিংবা ফলদায়ক সেটাই এখানে আলোচনার বিষয়।
বিশেষ কয়েকটি হরমোন যেমন­ DHEA, গ্রোথ হরমোন, টেসটোসটেরন, ইস্ট্রোজেন এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। যৌবন ধরে রাখার জন্য কিংবা বয়স পিছিয়ে দেয়ার জন্য বাইরে থেকে এগুলোর ব্যবহার কতটুকু ফলপ্রসূ অথবা এসব হরমোন আদৌ গুরুত্বপূর্ণ কি না তা আজো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাস্তব কথা হচ্ছে, যাদের বেলায় সত্যিকারভাবেই হরমোনের ঘাটতি বা সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের বেলায় কিছুটা উপকারী হলেও এসব হরমোনের ব্যাপারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সঠিক মাত্রায় প্রয়োগে দেহ সুস্থ থাকবে, কিন্তু ভুল মাত্রায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার দেহে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হরমোনের কার্যকারিতার সাথে কৃত্রিমভাবে প্রয়োগকৃত হরমোনের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করা যাক। দেহের অভ্যন্তরস্থ কোষগুলোর সমষ্টিতে গ্রন্থির সৃষ্টি এবং নালীবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন রক্তে মিশ্রিত হয়ে এবং বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে, কিন্তু কৃত্রিমভাবে দেহে নিসৃত হরমোনের মতো নয়। কারণ দেহে হরমোন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিঃসৃত হয়ে থাকে। আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, প্রয়োগকৃত হরমোন দেহে বেশি মাত্রায় বিরাজ করতে পারে। ফলে নেগেটিভ প্রভাব দেখা দিতে পারে। এমনিক দেহের হরমোনও বিপরীতমুখী প্রভাব সৃষ্টি করে। তাই অল্পমাত্রার এসব রাসায়নিক যৌগ হরমোন তা দেহ থেকেই নিঃসৃত হোক অথবা বাইরে থেকে প্রয়োগ করা হোক না কেন এগুলোর ব্যাপক কার্যকারিতা রয়েছে।
প্রথমেই দেহের বৃদ্ধি সাধনকারী হরমোন গ্রোথ হরমোন নিয়ে আলোচনা করা যাক। কারো কারো মতে এই গ্রোথ হরমোন বার্ধক্যেও লক্ষণগুলো কমাতে ভূমিকা রাখে। যেমন মাংশপেশীর বৃদ্ধি এবং চর্বি কমানো এবং দেহে শক্তি ও ভালো লাগা এবং সুস্থ থাকার অনুভূতি সৃষ্টিতে এই হরমোন সহায়ক।
আমাদের মস্তিষ্কে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থিকে মাস্টার গ্লান্ড ও বলা হয়। তা থেকে নিঃসৃত গ্রোথ হরমোন আমাদের দেহের টিস্যু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বৃষ্টি ও পরিপূর্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য অতীব জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই গ্রোথ হরমোন বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর মাত্রা কমে যেতে থাকে।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে বাইরে থেকে প্রয়োগকৃত এই হরমোন ব্যক্তিবিশেষ উপকার নিয়ে আসতে পারে। অনেক সময় শিশুরা অস্বাভাবিকভাবে খাটো হতে পারে যদি তাদের শরীরে এই হরমোন সঠিকভাবে তেরি না হয়। এসব ক্ষেত্রে বাইরে থেকে প্রয়োগ করলে তা দৈহিক বৃদ্ধি ঘটবে। অন্য দিকে তরুণ বয়সে যদি গ্রোথ হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী পিটুইটারি গ্রন্থি কোন কারণে তা টিউমারের জন্য অথবা অন্য কোন অপারেশনের ফলে ফেলে দিতে হয় তাহলে এই হরমোন আর তৈরি হয় না এবং এসব ক্ষেত্রে মেদবহুল দেহের সৃষ্টি হয়। এসব রোগীর ক্ষেত্রে বাইরে থেকে হরমোন প্রয়াগে ওজন কমে যাবে।

এখনো রীতিমত গবেষণা হচ্ছে যে, এই গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধ বয়সে প্রয়োগের ফলে এ সমযে তাদের মাংশপেশি শক্তিশালী ও দেহের চর্বি কমানো যায় কি না। এই ধরনের গবেষণায় রোগীদেরকে আরো বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রেখে দেখা হয়েছে যে, এই বয়সে এই হরমোন প্রয়োগে কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। পাশ্বৃপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস রোগ্‌ ত্বকে ও টিস্যুতে পানি টেনে নিয়ে আসাতে ব্লাড ক্যান্সার বেড়ে যেতে পারে এবং হার্ট ফেল্যুউর হতে পারে, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ও হতে পারে। যদিও বিদেশে বহু লোক বার্ধক্য ঠেকাতে অঢেল অর্থ অপচয় করছেন, দেহে বাইরে থেকে হরমোন প্রয়োগ করছেন কিন্তু ফলাফল খুব আশাপ্রদ নয়।
এবারে টেসটোসটেরন হরমোন প্রসঙ্গে আলোচনা করা যাক। টেসটোসটেরন হরমোন পুরুষ হরমোন হলেও নারী-পুরুষ উভয়ের দেহে টেসটোসটেরন উৎপাদিত হয়। পুরুষদের দেহে টেসটোসটেরন মাত্রা বেশি হওয়াতে পুরুষালী লক্ষণ যেমন কণ্ঠস্বর ভরাট, দাঁড়ি-গোঁফ গজানো এবং মাংশপেশির প্রশস্ততা ইত্যাদি দেখা দেয়। এই টেসটোসটেরন হরমোন পুরুষদের যৌন অনুভূতি ও চেতনা ও পুরুষাঙ্গের উত্থান ক্ষমতায় বিশেষ কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
বার্ধক্যে টেসটোসটেরন মাত্রা কমে যেতে পারে। তবে বার্ধক্যে যে যৌন দুর্বলতা দেখা দিয়ে থাকে তার সবগুলোর কারণই কিন্তু টেসটোসটেরন কমে যাওয়ার জন্য নয়। যেমন কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগ, রক্তনালীর সমস্যা ইত্যাদি আরো কিছু কারণ রয়েছে।
ওষুধ হিসেবে টেসটোসটেরন ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই তবে ব্যবহারের যৌক্তিকতা তাদের জন্যই হওয়া উচিত যাদের দেহে টেসটোসটেরন মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম রয়েছে অথবা যাদের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি হচ্ছে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, যাদের দেহের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তা টিউমার অথবা ইনফেকশনের কারণে হতে পারে অথবা টেসটোসটেরন উৎপাদনকারী অণ্ডকোষ কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা অসুস্থ থাকার কারণেও হতে পারে।

যাদের সত্যিকারভাবেই টেসটোসটেরন মাত্রা অপূর্ণতায় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে প্রয়োগকৃত টেসটোসটের ওষুধের অনেক উপকারিতা ও কার্যকারিতা রয়েছে। এই হরমোনের অভাবে পুরুষদের মাংশপেশি ও হাড় দিন দিন দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে শুধু এই হরমোনের অভাবে ও স্বল্পতায় যৌন উদ্দীপনা ও আগ্রহ ও ক্ষতা, বিশেষ করে পুরুষাঙ্গের উত্থান ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বাইরে থেকে প্রয়োগকৃত হরমোন ব্যবহারে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠা সম্ভব। কারণ এর ফলে হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখা যায়। তবে সব কিছুরই অতিরিক্ত প্রয়োগ ও ব্যবহার ক্ষতিকর। টেসটোসটেরনের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা থাকার পরেও এর অতিরিক্ত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ও টেসটোসটেরন হরমোনের ব্যবহার মাংশপেশির বৃদ্ধি ও শক্তি বৃদ্ধি ঘটাতে গিয়ে বিতর্কিত ঘটনার অবতারণা হয়েছে।
তাদের বেলায় দেখা গেছে যে, এদের বেশিরভাগই লোকেরই টেসটোসটেরন হরমোন মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাইরে থেকে প্রয়োগের ফলে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেখা যাবে যে, প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেছে, দেহের চর্বি কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরবর্তীতে হৃদরোগের সৃষ্টি করতে পারে। বন্ধ্যাত্ব ও ব্রণ সমস্যারও বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। যদিও এটা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি যে, বাইরে থেকে অতিরিক্ত টেসটোসটেরন হরমোন প্রয়োগের ফলে প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সার হতে পারে কি না।
তাই পরিশেষে বলতে চাই যে, বার্ধক্য রোধে নিজ থেকে হরমোন প্রয়োগ করা ঠিক নয় অনেক সময় দেখা যায় যে, আমাদের দেশে হাতুড়ে ডাক্তার অথবা যারা ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি করেন অথবা সাধারণ এমবিবিএস ডাক্তারও তাদের প্রাত্যহিক প্রাকটিস জীবনে যৌন সমস্যা দেখা দিলে যথাযথ হরমোন পরীক্ষা না করে সরাসরি হরমোনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলে থাকেন অথবা ব্যবস্থাপত্র লিখে থাকেন। এটা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বার্ধক্যের সব যৌন সমস্যা বা যৌন দুর্বলতার কারণই হরমোনজনিত নয়। কাজেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আপনার চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন যে বার্ধক্যে আপনার হরমোন গ্রহণ কতটুকু প্রয়োজন ও কতটুকু এর উপকারিতা রয়েছে।

ঠোঁটের পরিচর্যা

ঠোঁট হবে আকর্ষণীয় এটাই সবার কাম্য। কিছু ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা, ফাটা ভাব ও কালচে হওয়া খুবই নিয়মিত সমস্যা। 

ঠোঁট মিউকাস মেমব্রেন দ্বারা আবৃত। ঠোঁটের ত্বক খুবই নরম ও সেনসেটিভ। ঠোঁটে কোনো তেল গ্রন্থি থাকে না। তাই বাইরের আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা ঠোঁটের জন্য বেশ কঠিন। ঠাণ্ডা গরম, সূর্যরশ্মি, দূষণ সবই ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া ঠোঁট কামড়ানো বা জিভ দিয়ে ঠোঁট বারবার ভিজানোও ক্ষতিকর। 

অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন 
অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন ঠোঁটকে শুষ্ক করে তোলে। সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন ব্যবহার করবেন না। 

টুথপেস্ট টুথপেস্ট আমাদের ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে দু’বেলা। তাই যথাযথ টুথপেস্ট ব্যবহার না করলে ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। 

লিপস্টিক 
লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটে আলার্জি ও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে, তাই আপনার ঠোঁটে যে কোম্পানির লিপস্টিক কোনো প্রতিক্রিয়া করবে না, সেটাই ব্যবহার করম্নন। প্রয়োজনে নামী কোম্পানির লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো। 

লিপ বাম ও চ্যাপস্টিক ফাটা ঠোঁটের জন্য লিপব্যাম ও চ্যাপস্টিক প্রয়োজন। ঠোঁট কোমল ও মসৃণ করে। তবে অতি সুগন্ধিযুক্ত ও রসযুক্ত চ্যাপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো। 

সাবান 
ঠোঁটের ত্বক সংবেদনশীল বলেই সাবান দেবেন না ঠোঁটে। চোখের চার পাশ এবং ঠোঁটে সাবান ব্যবহার করলে ক্ষতি হয়। 

ধূমপান 
ধূপপান ঠোঁটের ত্বকের ক্ষতি করে ও কালচে ভাব আনে। 

ভিটামিন বি ও ভিটামিনের অভাব ভিটামিন বি-এর অভাবে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে ও ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। 

ত্বকের অসুখ ত্বকের অসুখ যেমন একজিমা, অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণেও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। এতে চিকিৎসার প্রয়োজন। 

শুষ্ক ঠোঁটের যত্ন ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ইমোলিয়েন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি, কোল্ডক্রিম ইত্যাদি ঠোঁটে ব্যবহার করা প্রয়োজন। 

যথাযথ লিপস্টিকও কিন্তু ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। তবে এ ক্ষেত্রে লিপস্টিকের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ভিটামিন সমৃদ্ধ ও অয়েলবেসড লিপস্টিক ঠোঁটের জন্য ভালো। তবে লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি হলে সাথে সাথে তা ব্যবহার বন্ধ রাখুন। 

- প্রয়োজনে টুথপেস্ট ব্যবহার করছেন তা বদলে ফেলুন। লক্ষ্য রাখবেন সাদা রঙয়ের টুথপেস্ট সাধারণত ভালো হয় ঠোঁটের জন্য। 
- সাবান ও ফেসওয়াশ ঠোঁটে লাগাবেন না। 
- সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 
- পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন ব্যবহার করম্নন, যতক্ষণ বাড়িতে থাকবেন ঠোঁটে ভেসলিন লাগাবেন। এ ছাড়া সূর্যমুখী তেল ঠোঁটের জন্য খুব ভালো। এটা দিনে কয়েক বার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ভেসলিন লাগাতে ভুলবেন না। 
- ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজাবেন না, বা ঠোঁট কামড়াবেন না। 
- ঠোঁটের মেকআপ উঠানোর জন্য তুলায় ভেসলিন লাগিয়ে আলতো ঘসে তুলবেন। কখনো লিপস্টিক লাগানো অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না। 
- ভিটামিন, প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফল খাবেন। 
- বিশেষ সমস্যা হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। 

ব্রণের সমস্যা ও চিকিৎসা

সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রণ একটি সাধারণ অসুখ। তবে যে কোনো বয়সেই ব্রণ হতে পারে।

ব্রণ দেখতে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেন ছোট ছোট গোল ফুসকুড়ি, লালচে ছোট ছোট গোটা, আবার পুঁজপুর্ণ বড় বড় চাকাও হতে পারে। ব্রণ টিপলে ভাতের দানার মতো বের হয়ে আসে। অনেকের ব্রণ খুব যন্ত্রণাদায়ক হয়। ব্রণের ফলে ত্বকে ছিদ্র দেখা দিতে পারে। কারো কারো মুখে ব্রণের তীব্রতা বেশি থাকলে তা এবড়োখেবড়ো দেখায়। ব্রণ বেশি টেপটিপি করলে সেখানে কালো দাগ সৃষ্টি হয়। ব্রণের চিকিৎসায় কতজনের কত না আয়োজন। অনেকে অনেক কসমেটিকের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে তা ব্যবহারও করে থাকে এবং দেখা যায় এসব কসমেটিকস প্রকৃতপক্ষে বাড়িয়ে তুলছে ব্রণের তীব্রতা।

ব্রণ কেন হয়? আমাদের ত্বকে অনেকগুলো ‘সিবাসিয়াস গ্রন্হি’ থাকে, যা থেকে সবসময় ‘সিবাম’ নামক এক ধরনের তৈলাক্ত রস নিঃসৃত হয়। লোমকুপ দিয়ে এই সিবাম বের হয়ে ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে বিধায় ত্বকে নরম, মসৃণ ও তৈলাক্ত ভাব আসে। যদি কোনো কারণে ‘সিবাম’-এর নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় এবং লোমের গোড়ায় বিদ্যমান ‘কেরাটিন’ (এক ধরনের প্রোটিন জাতীয় পদার্থ) ধুলোবালির সঙ্গে মিশে সেখানকার ছিদ্রপথ বা নির্গমণের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে সিবাম বের হতে না পেরে জমা হয়ে ব্রণ হিসেবে প্রকাশ পায়। 

ব্রণের চিকিৎসা
ষ সব ধরনের প্রসাধনী বর্জন করতে হবে। নখ দিয়ে ব্রণ খোঁটাখুঁটি করা যাবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রণ আপনা-আপনি সেরে যায়।

ষ দিনে অন্তত তিনবার ‘নিউট্রাজিনা’ সাবান দিয়ে মুখ ধুতে হবে। অনেকে ব্রণ হলে মুখে সাবান ব্যবহার বন্ধ করে দেন অথচ এ সময়ে সাবান দিয়ে মুখ ধুলে উপকার হয়, কেননা সাবান মুখের তৈলাক্ততা দুর করে এবং লোমকুপ পরিষ্কার রাখে। 

ষ রাতে ঘুমানোর সময় ভালো করে মুখ ধুয়ে শুধু ব্রণগুলোর ওপর পেনক্সিল ২.৫% জেলটি লাগানো যেতে পারে। এটি ব্যবহারে অনেকের চুলকানি বা লালাভ হতে পারে, তবে দু-একদিন জেলটি ব্যবহারের পর ঠিক হয়ে যায়। চুলকানি বা লাল ভাব বেশি হলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। 

ষ কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দুর করতে হবে। ঝাল-মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সুষম সহজপাচ্য হালকা খাবার, শাকসবজি, ফলমুল এবং প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পুষ্টিহীনতায় ভুগলে প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। 

ষ মাথায় খুশকি থাকলে অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি দুর করতে হবে। ব্রণের তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। 

অল্প বয়সে চুল পাকলে করণীয়

ছেলেদের চুল পাকার সমস্যা বেড়েই চলছে। প্রথমেই জানতে হবে কেন অল্প বয়সে চুল পাকে।
এক্ষেত্রে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম
কেন চুল পাকে...
*.১. স্পাইসি ফুড বেশি খাওয়া
*.২. ঘুম কম হওয়া
*.৩. চুলের যত্ন না করা,
*.৪. কম দামি হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা
*.৫. জেনেটিক বা হরমোনের সমস্যা...
চুল পাকা রোধে যা করবেন :
শুরুতেই পরিচর্যা করলে ইনশাআল্লাহ অনেকাংশে চুল পাকা রোধ করা সম্ভব।
*.সপ্তাহে দুই-তিন দিন তেল গরম করে তা মাথার স্কালপে ভালো করে ম্যাসাজ করতে পারেন। তেল চুলের
পুষ্টি জোগায়।
*.আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বাছাই করুন। শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
*.চুলে # খুশকি দেখা দিলে শুরুতেই সাবধান হোন। কারণ অতিরিক্ত খুশকির কারণেও অসময়ে চুল পাকে।
*.সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে এক দিন লেবুর রস বা পেঁয়াজের রস স্কালপে দিয়ে ৩০ মিনিট পর
ধুয়ে ফেললে খুশকি কমে যাবে।
*.প্রথম যখন দেখবেন চুল পাকতে শুরু করেছে তখন হেনা (মেহেদী ) , ডিমের কুসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক
তৈরি করে মাথায় লাগান। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। হেনা ব্যবহারের ফলে চুল পাকা রোধ হবে এবং চুলের
সাদা ভাবটা কম বোঝা যাবে ।
*.যাঁরা খুব বেশি রোদে কাজ করেন অর্থাৎ চুলে সরাসরি রোদ লাগে তাঁদের চুল দ্রুত পাকার প্রবণতা দেখা যায়।
সে ক্ষেত্রে রোদে কাজ করলে মাথা ঢেকে রাখুন। অথবা রোদ থেকে ফিরে ক্রিম সমৃদ্ধ # শ্যাম্পু দিয়ে চুল শ্যাম্পু
করুন।
*.অনেকে চুলে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন। যেমন: জেল, ক্রিম, কালার ইত্যাদি। এসব ব্যবহারে সতর্ক
থাকতে হবে। সব সময় ভালো ব্র্যান্ড ব্যবহার করা উচিত।
*.ভিটামিন-ই ক্যাপসুলও চুলে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সরাসরি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল চুলে বা স্কালপে ব্যবহার
না করাই ভালো। তেল বা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
অল্প বয়সে চুল পাকলে আরও কিছু পরামর্শ :
বংশগত হলে , অর্থাৎ আপনার বাবা-চাচা-কাকা-দাদার মত করে আপনারও চুল দ্রুত সাদা হয়ে পরলে ব্যাপারটা একটু
কঠিন। আর তা না হলে, এগুলো মেনে চলুনঃ
*.অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা করবেন না
*.অতিরিক্ত চা-কফি-ড্রিংক্স খাবেন না।*.বেশি তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। বেশী মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না।
*.বেশী টক বা এসিডিক খাবার খাবেন না।
এগুলো খাবেনঃ
আটার রুটি, সিরিয়াল, মাংস সব ধরনের, সয়া, গাঢ় সবুজ সবজি, হলুদ ফলমূল, সবুজ শাক, কলা, টমেটো, ফুলকপি, গরু-
খাশির কলিজা-ফেশকা, দই, পাউরুটি, কাজু-পেস্তা আর কাঠ বাদাম, ডিম, চিংড়ি মাছ, গাজর।
এই প্যাকগুলো দিতে পারেনঃ
*.শুকনো আমলকি নারিকেল তেলে ডুবিয়ে সিদ্ধ করে তেলটা কালো করে সেটা ভালো করে ঘষে ঘষে মাথায় দেবেন।
*.নারিকেল তেল আর লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দিতে পারেন।
*.এক চা চামচ লবন এক কাপ ১৫ মিনিট জ্বাল দেয়া কালো চা-এর সাথে মিশিয়ে সেটা মাথায় ম্যাসাজ করতে হবে।
*.দুই চামচ মেহেদি, এক চামচ দই, এক চামচ মেথি গুড়া, তিন চামচ কফি, ২ চামচ পুদিনার রস, ৩ চামচ মিন্ট রস
একসাথে মেখে মাথায় মেখে ৩ ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলবেন।

পেটের গোলমালে কলা উপকারী

আমাদের অনেকেরই হয়ত জানা নেই, কলা পেটফাঁপা বা স্টমাক আপসেট থেকে রক্ষা করতে পারে। যদিও কথাটি অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইবেন না কিন্তু সাম্প্রতিককালের গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে। গবেষকরা বলছেন, কলা পাকস্থলী থেকে মিউকাস এবং এক ধরনের কোষের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে যা পাকস্থলীর ঝিল্লি এবং এসিডের মাঝে পর্দার মতো বাঁধার কাজ করে। উল্লেখ্য, এই এসিডই বুকজ্বালা (হার্টবার্ন) ও পেটফাঁপার (স্টমাক আপসেট) জন্য দায়ী। তবে সবক্ষেত্রেই পেটফাঁপা এবং বুকজ্বালা দূর করতে কলা কার্যকর হবে না। বিশেষ করে পেটফাঁপাজনিত কারণে কেউ বমি করতে থাকলে করা এবং কলার মতো অন্যকোন শক্ত খাবারই তখন দেখা উচিত হবে না। এসব অবস্থায় তরল খাবারই রোগীকে দেয়া উচিত। তরল খাবারের পর শক্ত খাবার শুরু করতে চাইলে তা কিছুটা মৃদু জাতের হওয়াই বাঞ্চনীয়। কলাকে সেই মৃদু খাবার হিসেবেই গণ্য করা হয়। বদহজমসহ পেটের গোলমালের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য উপযোগী ব্রাট (বিআরএটি) খাবারেরও অন্যতম উপাদন হচ্ছে কলা। ‘ব্রাট’ হচ্ছে বানানা, রাইস সিরিয়্যাল, আপেল সস ও টোস্ট-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অনেক চিকিৎসকই শিশুদের পেটের গোলমালের পর বিশেষ করে ডায়রিয়ার পর এই ‘ব্রাট’ খাবার শিশুকে খাওয়াতে পছন্দ করেন।

কম ঘুমানো ক্ষতিকর

রাতজাগা এখন ক্রেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ রাত জেগে প্রেমিকের সঙ্গে চুটিয়ে গল্প করে। কেউ রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। আবার কেউ গভীর রাতে পার্টির আমোদে মেতে সারা রাত পার করে। 

তবে যারা রাতে সাধারণত না ঘুমিয়ে অন্য কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন তারা এবার হুশিয়ার হয়ে যান। কারণ, গবেষণা বলছে, রাতে না ঘুমানোর ফলে আপনার স্বাস্থ্য ভীষণভাবে প্রভাবিত হবে। মেটাবলিক ডিজিজ ছাড়া রাতে না ঘুমানোর ফলে আপনার ওজনও বেড়ে যেতে পারে। অর্থাত্ আপনি হঠাত্ করে মোটা হয়ে যেতে পারেন। 

কিছুদিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা গবেষণা করেছিলেন। তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে যা উঠে এসেছে তা হলো কম ঘুমানো যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ, সে রকম অত্যধিক ঘুমানোর ফলেও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। গবেষকদের মতে প্রতিদিন রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। এই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেই আপনি নিজের বিপদ ডেকে আনবেন।

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন


দূর ছাই! কিচ্ছু মনে থাকে না। স্মৃতিশক্তিটা কি কমে গেল? নিজেদের প্রতি এ জাতীয় অভিযোগ আমরা হরহামেশাই করে থাকি। আর বয়স হলে আরও বেশি করি। আবার অনেকেই আছেন যারা সুস্থ তীক্ষষ্ট মস্তিষ্ক নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। শেষ দিনটি পর্যন্ত মেধা আর অটুট স্মৃতিশক্তি বলে কাজ করে যান মানুষের জন্য। কী করে সম্ভব হয়? তীক্ষষ্ট মেধা, অটুট স্মরণশক্তি মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য হলেও এগুলো অক্ষুণ্ন রাখাও মানুষেরই কাজ।
স্মৃতিশক্তি কমে কেন মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা কমে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। কমে যায় চিন্তা করার স্বাভাবিক ক্ষমতা। দেহের কোষগুলোতে শক্তি উত্পাদনের জন্য প্রতিনিয়ত সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এসব জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোষগুলোতে কিছু ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। এ যৌগগুলো কোষের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এবং এক পর্যায়ে কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। ফলে আমরা বার্ধক্যের পথে এগিয়ে যাই। একই ব্যাপার মস্তিষ্কের কোষগুলোতেও ঘটে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষগুলোও বুড়িয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক ক্ষমতা। আমাদের স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। এছাড়া কোন কারণে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যায়। হৃিপণ্ড থেকে শতকরা ২০ ভাগ রক্ত সরাসরি মস্তিষ্কে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো কারণে ধমনীর প্রাচীর সরু হয়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। দেখা গেছে, যারা হৃদরোগী তারা সাধারণত ভুলোমনা হয়ে থাকে। একই কারণে স্ট্রোক করলে মানুষের স্মরণশক্তি এবং চিন্তাশক্তিও দারুণভাবে কমে যায়।
আর দুশ্চিন্তা নয়
দুশ্চিন্তা বা টেনশনে মানুষের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে গ্লুকোকরটিকয়েড নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মস্তিষ্কের কোষগুলোকে দ্রুত আক্রান্ত করে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। সুস্থ মস্তিষ্ক আর শাণিত মেধা নিয়ে বেঁচে থাকুন দীর্ঘ দিন।
ইতিবাচক চিন্তা করুন
নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। সন্দেহবাতিক মন মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। মনের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগটা খুব গভীর। তাই মনের পরিচর্যা করুন। নিজেকে নিয়োজিত রাখুন সৃষ্টিশীল কাজে।
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করুন ক্রোধ বা রাগ মন ও মস্তিষ্কের শত্রু। আমরা যখন রেগে যাই তখন শরীরে নিঃসৃত হয় বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
মেডিটেশন করুননিয়ম করে দিনের কিছু সময় মেডিটেশন করুন। যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। সম্ভব না হলে অন্তত সকাল-সন্ধ্যা খোলা ময়দানে হাঁটুন। এ অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। স্মরণশক্তি মূলত নির্ভর করে আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতার ওপর। মেডিটেশন আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিনসারাক্ষণ কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তোলে। ক্লান্তি মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত ঘণ্টা ঘুমান। দীর্ঘ কাজের ফাঁকে একটু ব্রেক দিন। কাজে মনোনিবেশ করা সহজ হবে।
বুঝেশুনে খাবার খান
বুঝেশুনে খাবার খেলে যদি ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, হৃদযন্ত্র সচল রাখা যায় তাহলে মগজকে কেন শাণিত করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। চাই খাদ্য সচেতনতা। এ ব্যাপারে প্রথম পরামর্শ হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতিকর জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উত্পন্ন ক্ষতিকর যৌগগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। ফলে কোষগুলো থাকে কর্মক্ষম আর তারুণ্যদীপ্ত। তাছাড়া অ্যান্টঅক্সিডেন্ট শিরা-ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে হৃিপণ্ড সচল, মগজটাও টনটনে। প্রাণীজ আমিষ খেয়ে শরীরে হিমোসিস্টিন নামক এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড উত্পন্ন হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ হিমোসিস্টিন উত্পাদনের প্রক্রিয়াও বেড়ে যায়। এ হিমোসিস্টিন ধমনীর প্রাচীরে জমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই মাছ-মাংস পরিমিত খাওয়াই সঙ্গত। তাহলে কী খাবেন? আগেই বলা হয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো খাবার। মূলত ভিটামিন-ই এবং সি হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন। দুধ, কলিজা, সয়াবিন, সবুজ শাক-সবজি, ফলমূলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। সমপ্রতি পশ্চিমা গবেষকরা নির্দিষ্ট কিছু খাবারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন। এগুলো হলো পালং শাক, ব্লুবেরি এবং স্ট্রবেরি। সয়াবিন আর রসুনের প্রতিও তারা আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের যুক্তিটা হলো রসুন-সয়াবিন রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল সুষ্ঠু হয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোও সচল থাকে। বিজ্ঞানীরা ফলিক এসিডসহ ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্যান্য ভিটামিনের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন একই কারণে। বিশেষ করে হিমোসিস্টিন দূর করতে ভিটামিন বি-১২ এর জুড়ি নেই।

মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মস্তিষ্ক, যা তাকে আর সব প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ করে রেখেছে। মস্তিষ্কের তাই যত্ন নেয়া চাই। মেধা, মনন, বুদ্ধি—এসবই হলো সুস্থ মস্তিষ্কের ফসল। সঠিক চিন্তা, সুস্থ জীবনাচরণ, সুষম খাবার—এ হলো সুস্থ মস্তিষ্কের মূলমন্ত্র।

**************************
ডাঃ গোলজার হোসেন উজ্জ্বল,
চিকিত্সক ও স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

মেদ কমানোর আট উপায়


বাড়তি মেদ নিয়ে সকলেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। চর্বি বা মেদ কমানোর জন্য অনেকেই নানারকম পরামর্শ দেন। বিভিন্ন পত্রিকা আর বইতেও হাজারটা উপায় উল্লেখ থাকে। অনেক উপায়ের মধ্যে চর্বি কমানোর সেরা দশ উপায় এখানে তুলে ধরছি।
১• প্রচুর পানি পান করুনঃ পানি শরীরের ভেতরটা সতেজ করে। জুস, কোল্ড ড্রিংকস, আঙুরের রস খেলে হবে না। বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। পানি শরীরের টক্সিন বা বিষকে বের করে দিয়ে মাংসপেশী গঠনেও সাহায্য করে এবং স্বল্প আহারি হন।
২• সঠিক খাদ্য নির্বাচনঃ মেদ কমানোর জন্য খাবার নির্বাচনে সর্তক হতে হবে। মাখন, পনির, তেল ও ঘি সমৃদ্ধ খাবার একেবারেই কমিয়ে দিতে হবে।
৩• ওজন তুলুনঃ বাড়তি চর্বি পোড়ানোর জন্য প্রতিদিন কিছু ওজন তুলূন। প্রচলিত ব্যায়ামের চেয়ে এটি অনেক কার্যকর। তবে বেশি ওজন তুলতে গিয়ে যেন ঘাড় ও কোমরের সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৪• প্রচুর প্রোটিন খানঃ আমিষ (প্রোটিন) সমৃদ্ধ খাবার যেমন-মাছ, ডাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খান। প্রোটিন শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় ও চর্বি পোড়ায়।
৫• খাওয়া কমান সাবধানেঃ অনেক মেদ কমাতে গিয়ে খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দেন। এতে প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ঢালাওভাবে সব খাবার না কমিয়ে প্রথমে তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কমান, এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার কমাবেন। তবে অবশ্যই তা নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত।
৬• অতিরিক্ত ব্যায়াম পরিত্যাজ্যঃ খুব দীর্ঘ পথ হাঁটা কিংবা একসাথে অতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে অল্প অল্প ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করুন। কাজের ফাঁকেও এটা করতে পারেন।
৭• একঘেঁয়ে ব্যায়াম নয়ঃ প্রতিদিন এক ব্যায়াম না করে একেকদিন একেকটা করুন। কোনদিন সাঁতার তো কোনদিন জিমে যান, আবার কখনও পার্কে হাঁটুন।
৮• ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুনঃ মদ ও সিগারেট শরীরে মেদ জমায়। এলকোহল শরীরে চর্বি পোড়াতে বাঁধা দেয়।

ঠোঁটের কালোদাগ দূর করে লিপিস্টিক ব্যতিত গোলাপী/লাল আভায় ভরিয়ে তুলুন॥

সবাই চায় তার ঠোঁটটা একটু গোলাপী অথবা লাল রঙের ছোয়ায় ভরিয়ে নিতে॥কিন্তু সেটা কি সম্ভব?নিচের ৩ টি টিপস অনুসরণ করুণ॥দেখবেন সবই সম্ভব॥

১/কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে প্রতিদিন অন্তত তিনবার পাঁচ মিনিট আলতো ভাবে ঠোঁটে ঘষুন॥কালো দাগ দূর হয়ে যাবে॥

২/দাঁত ব্রাশ করার সময় ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটের উপর ঘষা দিন॥এতে করে মরে যাওয়া ত্বক উঠে যাবে এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে॥

৩/রাত ঘুমানোর পূর্বে ঠোঁটে মধু এবং একটু অলিভ অয়েল মিক্স করে লাগিয়ে ঘুমান॥এটি ঠোঁটকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে॥

কয়েকদিন উপরোক্ত পদ্ধতি মোতাবেক কাজ করুন॥আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন আপনার ঠোঁটের রঙ দেখে॥

হেঁচকি দূর করার কৌশল-

হেঁচকি একবার ওঠা শুরু হলে সেটা আর থামতেই চায় না। যতই চেষ্টা করুন না কেন, অনেকক্ষণ ধরে বিরক্তিকর এই ব্যাপারটা চলতে থাকে। এটা শরীরের জন্য যেমন অস্বস্তিকর তেমনি বিব্রতকরও বটে।

বিশেষ করে যদি বাসার বাইরে কোথাও হেঁচকি ওঠা শুরু হয়। দ্রুত হেঁচকি ওঠা বন্ধ করতে রয়েছে একটি সহজ কৌশল আর এর জন্য আপনার কাজে আসবে মাত্র এক চামচ চিনি!

এক চা চামচ চিনি মুখে নিন। সাথে সাথেই গিলে ফেলবেন না, কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে দিন। এর পরে পুরোটা একেবারে গিলে ফেলুন। গলার ভেতরে গিয়ে চিনি হেঁচকি থামিয়ে দেবে নিমিষেই......

চুল সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা


* দিনে বারবার চুল আঁচড়ালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলে অনেকেই বলেন। চুল বেশি আঁচড়ালে টান লেগে বরং চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। দিনে পাঁচ-ছয়বার আঁচড়ানোই যথেষ্ট।

* চুল বারবার কামালে ঘন চুল ওঠে বলে ছোটবেলায় আমরা অনেকেই মাথা ন্যাড়া করেছি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বেশিবার কামালে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে বরং চুল কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

* চুল টাইট করে বেণি করে ঘুমালে চুলের বৃদ্ধি বেশি হয় বলে মেয়েরা মনে করে। কিন্তু বেশি টাইট করে না বাঁধাই ভালো। এতে চুল উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে

তকের সৌন্দর্যের জন্য ১০টি খাবারঃ

১. তরমুজ: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং চোখের নিচে কালো দাগ দূর করে।

২. আনারস: ত্বকের ছোপছোপ দাগ দূর করে।

৩. চকলেট: এর কোকোতে থাকা পলিফেনল ত্বকের ক্ষত ও দাগ দূর করে।

৪. গরম মশলা: ত্বকের সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করে।

৫. আঙ্গুর: এর এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মুক্ত রাখে।

৬. ব্রোকলি: এর ভিটামিন-কে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে।

৭. সূর্যমুখী তেল: এর লিনোলেইক এসিড আর্দ্রতা ধরে রাখে।

৮. পেস্তা বাদাম: শুষ্ক ত্বকে এর ভিটামিন-ই আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে।

৯. দুধ: এর ভিটামিন-ডি ত্বকের মসৃণতা বাড়ায় এবং বলিরেখা দূর করে।

১০. গাজর: যাদের তৈলাক্ত ত্বক গাজরের ভিটামিন-এ তাদের ত্বকে তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

নখের কোণে জীবাণুঃ

নখের কোণে লুকিয়ে থাকা জীবাণু দূর করতে হালকা কুসুম গরম পানিতে একটু লিকুইড সোপ মিলিয়ে নিন, হাতে একটু ম্যাসাজ ক্রিম বা অলিভ ওয়েল অথবা অ্যাযারোমা এসেনসিয়াল অয়েল মেকে পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখুন সাত-আট মিনিট। এরপর নেইল ব্রাশ দিয়ে ঘষে নখ পরিষ্কার করে নিন। এতে নখের কোণে লুকিয়ে থাকা জীবাণু সব বেরিয়ে যাবে। পরিষ্কার সাধারন পানিতে হাত ধুয়ে শুকনো তোয়ালে চেপে মুছে নিন। এবার হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে আপনার হাত হবে মসৃণ।

ছেলেদের জন্য কিছু টিপস :

সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সৌন্দর্যের মূল কথা। ক্লিনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিংয়ের প্রয়োজন তো রয়েছেই, কিন্তু তার সঙ্গেও জরুরি শারীরিক সুস্থতা। কারণ সৌন্দর্য শুধু রূপচর্চার ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে রয়েছে
সিজনাল চেঞ্জ, পলিউশন, মেন্টাল স্ট্রেস, দীর্ঘক্ষণ এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে থাকার মতো সমস্যা। তাই ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল কেয়ারের মধ্যে যথাযথ ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করুন। কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে আপনার ত্বক সুস্থ ও সুন্দর হয়ে উঠবে তা জেনে নিন।?

ব্যালেন্সড ডায়েট: ত্বকের সুস্থতার জন্য ন্যাচারাল ফুড জরুরি। ন্যাচারাল ফুড মানে সবজি, ফল, অঙ্কুরিত ছোলা, দই, সিরিয়াল ত্বকের পক্ষে উপকারী। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান জরুরি। এছাড়া ফল বা সবজির রসও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য উপকারী। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারে ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম যথাযথ পরিমাণে থাকলে ব্যয়বহুল ফেশিয়াল ট্রিটমেন্টের তেমন প্রয়োজন পড়ে না।

এক্সারসাইজ: এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যকলাপে সাহায্য করে। এর ফলে স্কিন ও স্ক্যাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হয়। মেন্টাল ট্রেস থেকে ত্বক ও চুলে নানারকম সমস্যা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত এক্সারসাইজ এ সমস্যার সমাধানে কাজ করে।

ঘুম ও রিল্যাক্সেশন: ডায়েট ও এক্সারসাইজের সঙ্গে জরুরি ঘুম ও রিল্যাক্সেশনের। ঘুমের সময় বডি সিস্টেম স্লো ডাউন হয়ে যায়। সেল রিনিউয়াল প্রসেস শুরু হয়।

নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নিন: কসমেটিক ব্যবহারের আগে নিজের স্কিন টাইপ বুঝে নেওয়া সবচেয়ে প্রয়োজন। সকালে ঘুম থেকে ওঠে মুখ ধোয়ার আগে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছুন। টিস্যু পরিষ্কার হলে বুঝবেন আপনার নর্মাল ও ড্রাই স্কিন। সমান্য তেলাভাব থাকলে নর্মাল ও অয়েলি স্কিন। কপাল, নাক, থুতনি মুখের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা টিস্যু ব্যবহার করুন। কম্বিনেশন স্কিন কি না বুঝতে সুবিধা হবে। অয়েল গ্লান্ডের ওপর আপনার ত্বক কি ধরনের তা অনেকটা নির্ভর করে। ত্বকে সেবাম অয়েলের এ ব্যালেন্স নানা কারণে ব্যাহত হতে পারে, যেমন বেশিক্ষণ রোদে থাকা, শুকনো আবহাওয়া, সাবান, ক্লোরিন যুক্ত পানির ব্যবহার, এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে বেশিক্ষণ থাকা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স। এর ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, অ্যাকনে বা র‌্যাশের মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই ক্লিনজার, টোনার, ময়শ্চারাইজার কেনার সময় নিজের স্কিন টাইপের সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাগুলোর কথাও মনে রাখা দরকার। যেমন বেশিক্ষণ রোদে ঘুরে কাজ করতে হলে আপনার প্রয়োজন সানস্ক্রিন, পলিউশনের জন্য দরকার ভালো ক্লেনজার।

ধুলো-ময়লা, পলিউশন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন: এয়ার পলিউশনের কারণে ত্বকের ওপর টঙ্কিন জাতীয় পদার্থ জমতে শুরু করে, ফলে স্কিন সাপোর্টিভ টিস্যু ড্যামেজড হয়। প্রে-ম্যাচিউর এজিংয়ের সমস্যা শুরু হয়। এর থেকে ত্বককে সুরক্ষার জন্য জরুরি নিয়মিত ক্লিনজিং। ক্লিনজিং ক্রিম বা ক্লিনজিং মিল্ক এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন। রোদ থেকে সুরক্ষারপাশাপাশি ধুলো-ময়লা থেকে ত্বককেও রক্ষা করবে। সপ্তাহে না পারলেও মাসে অন্তত এক বার ফেসিয়াল করুন।