Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.

Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts

Bangla sex problem: যে সকল ভুলের কারণে মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড থাকে না

 যে সকল ভুলের কারণে মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড থাকে না:
প্রায় ছেলেদের চোখে মেয়ে মানুষ খুব রহস্যময়ী। আবার মেয়েদের চোখেও অনেক দিক থেকে ছেলেদের মন বোঝা দায়। যাই হোক না কেন এখানে গবেষকরা মেয়েদের এমন ৭টি কাজের কথা বের করেছেন যেগুলো দিয়ে তারা ছেলেদের পুরোপুরি হতাশ করে দেয়। বয়ফ্রেন্ডের মুডটা নষ্ট করে দিতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার হয় না। দেখে নিন সেই সাত বিষয়ের কথা।
১ . টেক্সটিংয়ের ক্ষেত্রে কূটচাল :
ধরুন, আপনার বয়ফ্রেন্ড হঠাৎ করেই একদিন আপনাকে নিয়ে ঘুরে আসতে চাইলেন। একটি টেক্সটও পাঠালেন। কিন্তু এর জবাব দিতে এক ঘণ্টা লাগলো আপনার। এতে ছেলেটি বুঝতেই পারলেন না, আপনি রাগ করেছেন কিনা যে কোনো জবাবই দিলেন না। আবার টেক্সট করার মনমানসিকতা তার নাও থাকতে পারে। মনটাই ভেঙে যাবে তার।
২ . মনোযোগ কাড়তে অন্যের সঙ্গে খুনসুটি :
অনেক মেয়েই মনে করেন, বয়ফ্রেন্ডের মনটা হিংসায় ভরে দিতে তার বন্ধু বা অন্য ছেলের সঙ্গে খুনসুটি করতে হয়। এর মাধ্যমে তারা বয়ফ্রেন্ডের মনোযোগ কাড়তে চান। কিন্তু এতে করে আপনার সম্পর্কে যে তার বাজে ধারণা সৃষ্টি হতে পারে, তা কি ভেবে দেখেছেন? এমন স্বভাবের মেয়েদের কোনো ছেলেই ভালোবাসতে চান না। কাজেই তার মনোযোগ কাড়তে গিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে খাটো করবেন না।
৩ . ঠিক না থাকলেও বলা ‘আমার কিছু হয়নি‘ :
হয়তো কোন বিষয় নিয়ে মনটা ভালো নেই আপনার। হয়তো প্রেমিকের সঙ্গেই টুকটাক ঝামেলা হয়েছে। প্রেমিক হয়তো বুঝতেও পারছেন সমস্যাটা। কিন্তু তিনি জিজ্ঞাসা করতেই পারেন, কি হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে সবসময় ‘কিছুই হয়নি’ বলাটা উচিত নয়। এই জবাব দিয়ে দুজনের মাঝের যুদ্ধটা আরো এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
৪. মেজাজ খারাপ করা প্রশ্ন :
আলাপচারিতায়  কিছু রোমান্টিক প্রশ্ন করতেই পারেন আপনি। যেমন- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটা নেওয়ার সুযোগ যদি তোমাকে দেওয়া হয়, তবে আমার জন্যে তুমি কি নেবে? এসব প্রশ্ন ততক্ষণই ভালো কিছু বয়ে আনে যতক্ষণ এতে উদ্দেশ্যমূলক কিছু না জুড়ে দেওয়া হয়। আপনি যদি বলে বসেন, আমি মারা যাওয়ার পর কোন বান্ধবীকে তুমি বেছে নেবে? এই প্রশ্নটি নিশ্চয়ই আপনার সুন্দর মনের পরিচয় দেয় না। এসব প্রশ্ন নিয়ে কথোপকথন কখনোই ভালো পরিস্থিতি দিয়ে শেষ হয় না। কাজেই এসব থেকে দূরে থাকুন।
৫ . তার সিদ্ধান্তে সন্দেহ প্রকাশ :
আপনাকে ডিনারে কোথাও নিয়ে যেতে চাইলেন তিনি। বললেন, কোন রেস্টুরেন্টে যেতে চাও? পছন্দের কিছু থাকলে বলুন। আর যদি বাছাইয়ের দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেন, তো তিনি যেখানে নিয়ে যেতে চাইবেন সেখানেই খুশী থাকুন। কিন্তু তার ওপর দায়িত্ব দেওয়ার পরও যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকেন, তবে তা ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
৬ . নিজের সম্পর্কে কৌশলী প্রশ্ন :
কোনো পোশাকে আপনাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। বয়ফ্রেন্ড বলবেন যে আপনাকে দারুণ লাগছে। কিন্তু সুন্দরী কাউকে দেখিয়ে বললেন, আপনাকে ভালো লাগছে নাকি তাকে? এসব প্রশ্ন ছেলেরা একদমই পছন্দ করেন না। যতি সত্যিটা বলেন যে, আপনাকে ভালো লাগছে না তাহলে আপনি চটে যাবেন। আবার মিথ্যা বলতেই তার ভালো নাও লাগতে পারে।
৭ . এলোমেলো সংকেত :

কাউকে যদি ভালো লাগে, তবে তার কাছে পরিষ্কার থাকুন। যদি ঘোলাটে করতে চান, বিষয়টি ভালোর দিকে যাবে না। যদি ছেলেটি সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলতে আসেন, তবে তিনি ভুল বুঝেছেন বলে অযথাই তাকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না। এগুলো ছেলেদের মনে ভুল ধারণা তৈরি করে।
Related posts: নারী-পুরুষের কয়েকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় সমূহ

মা-বাবার রক্তের গ্রুপ একই হলে সন্তান জন্মে কোনো সমস্যা হয় কী?


প্রশ্ন: মা-বাবার রক্তের গ্রুপ একই হলে সন্তান জন্মে কোনো সমস্যা হয় কী?

উত্তর: অনেকেরই ধারণা যে মা-বাবার রক্তের গ্রুপ এক হলে সন্তানের নানা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আসলে ধারণাটি অমূলক। তবে মায়ের নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ ও বাবার পজিটিভ গ্রুপ থাকলে অনেক সময় শিশু বাবার গ্রুপ পায় এবং এ কারণে সমস্যা হতে পারে। আবার মায়ের ও পজিটিভ কিন্তু শিশুর এবি বা বি পজিটিভ হলেও জন্ডিস বা অন্য কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অধ্যাপক তাহমীনা বেগম
শিশুরোগ বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল

পুরুষের যেসব দিক নারীর নজর কাড়েঃ

প্রেমের বা প্রেমে পড়ার বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই। যখন যে কাউকে ভালো লেগে যেতে পারে। তবে কাউকে ভালো লাগা বা কারও প্রেমে পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু না কিছু বিষয় কাজ করে। নারীদের কথাই ধরুন। সঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পুরুষের বেশ কয়েকটা দিক বিবেচনায় নেয়। সেই বিবেচনাটা হতে পারে বেশ সময় নিয়ে বা হতে পারে তা তাত্ক্ষণিক। নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নারীরা দেখে, পুরুষের এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।

☞১) শারীরিক অবয়বঃ
অনেকে আপত্তি করলেও এটা ঠিক, প্রেমের ক্ষেত্রে শারীরিক অবয়বটা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরুষের অবয়বটা দেখে নেয় নারী। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চতা, গায়ের রং, চুল, চোখ সবই। শারীরিক অবয়বের অনেক কিছুই হয়তো মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই, তবে যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। অন্তত হাত আর পায়ের নখ পরিষ্কার রাখুন।

☞২) ফ্যাশনবোধঃ
নারীর দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষেত্রে আপনার স্টাইল, ফ্যাশন এসব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পোশাক ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। এর মানে এই নয় যে আপনাকে সব সময় চিত্রতারকাদের মতো হয়ে থাকতে হবে। তবে ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে খেলাধুলার জুতা পায়ে দেওয়ার মতো ফ্যাশন করা থেকে সময় সময় দূরে থাকতে হবে। আপনি হয়তো কিছু মনে করছেন না বা আপনার খারাপ লাগছে না; নারীরা কিন্তু এসব ব্যাপার বেশ ভালো করেই দেখে।

☞৩) আত্মবিশ্বাসঃ
নারীরা সাহসী, আত্মবিশ্বাসী পুরুষদের পছন্দ করে, যারা নিজের মনের ভাবটা সরাসরি প্রকাশ করে। শুরুতে কথা বলার সময়ই নারী দেখে নেয় আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী, আপনার মানসিকতা ইতিবাচক না নেতিবাচক। নারীর সঙ্গে কথার বলার সময় ইতিবাচক ও বিনয়ী থাকুন। অপ্রাসঙ্গিক কথা বলবেন না। কথা বলার সময় অবশ্যই কেবল নিজের মতামতকেই গুরুত্ব দিতে যাবেন না। তাঁর কথাটাও গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। জোর করে স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

☞৪) কথা বলার ধরনঃ
নারীর সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তার সময় বিরক্তির উদ্রেক করবেন না। আলাপচারিতা যতটা সম্ভব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। না হলে তাঁর মনে বিরক্তির ভাব জন্ম নিতে পারে। তাঁর মনোযোগ ধরে রাখুন, আলাপচারিতাটা মনোরম করে তুলুন। আপনি যত বেশি সময় ধরে কথাবার্তা চালিয়ে যাবেন, তত বেশি তিনি আপনার সম্পর্কে জানতে পারবেন। তা ছাড়া তিনি আপনার কথা বলার ধরনও লক্ষ করতে পারেন। তাই একটু সতর্ক থাকুন। উদ্ধত আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

☞৫) রসবোধঃ
ভালো রসবোধসম্পন্ন পুরুষদের সব সময় নারীরা পছন্দ করে। হাসাতে পারে, এমন পুরুষ নারীদের কাছে জনপ্রিয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে নারীরা স্বস্তিবোধ করে। হালকা কথাবার্তা দিয়ে নারীর সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করুন। বেশি সিরিয়াস হবেন না, কথাবার্তায় ইতিবাচক থাকুন। আরেকটা কথা, রসবোধ প্রকাশ করার জন্য প্রথম আলাপচারিতায় কখনোই আপত্তিকর কৌতুক বলতে যাবেন না। ওই একটা কারণই কিন্তু দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরির জন্য যথেষ্ট!

ভালো ঘুমের জন্য টিপসঃ

সকলেই চাই সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে ভালো ঘুম হউক। আর অনেকে ঘুমের জন্য কতনা যুদ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত অনেককে ঘুমের ওষুধ পর্যন্ত সেবন করতে হয়। তবে ভালো ঘুমের জন্য যা জানা দরকারঃ

☞ নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে যাতে শরীরে অবসাদ না পেয়ে বসে।

☞ সন্ধ্যা ৭টার পর কফি বা ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকুন।

☞ ঘুমাতে যাবার অন্ততঃ ১ ঘন্টা পূর্ব থেকে কোন চিন্তার কাজ করবেন না। টোটাল রিল্যাক্সড মুডে থাকতে হবে।

☞ ঘুমানোর ঘরটি হতে হবে একেবারেই কোলাহলমুক্ত।

☞ ঘুমানোর সময় সবধরণের বাতি নিভিয়ে দিন।

☞ যদি ঘুম আসতে বিলম্ব হয় তবে খানিকটা লম্বা শ্বাস নিন।

☞ সম্ভব হলে ১ গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করুন।

☞ রাতে গোসলের পর অয়েল ম্যাসাজ নিতে চেষ্টা করুন।

☞এসব করেও যদি ঘুম না আসে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বয়স্কদের কোমর ব্যথা


কোমরে ব্যথার কারণ অনেক। নড়াচড়া বা চলাফেরা করার সময় কোমরের অবস্থান সঠিক না থাকলে কোমরে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে কোমরে ব্যথা বয়স বাড়লে সাধারণত লাম্বার স্পনডাইলোসিসের জন্য হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সূত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীল পরিবর্তনসাধিত হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে।

রোগের উপসর্গ কোমরে ব্যথা। প্রথম দিকে এ ব্যথা কম থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে এ ব্যথা কিছুটা কমে আসে। ­কোমরে সামান্য নাড়াচাড়া হলেই এ ব্যথা বেড়ে যায়। 
অনেক সময় ব্যথা পায়ের দিকে নামতে পারে এবং অবশ ভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতিও হতে পারে।

কোমরের মাংসপেশি কামড়ানো ও শক্ত ভাব হয়ে যাওয়া­ এ ধরনের উপসর্গও রোগে দেখা দিতে পারে।

প্রাত্যহিক কাজে, যেমন­ নামাজ পড়া, তোলা পানিতে গোসল করা, হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদিতে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়।

কোমরের ব্যথা রোগের চিকিৎসা
বিশ্রামঃ 
এ রোগী শক্ত ও সমান বিছানায় বিশ্রামে থাকবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশ্রামে ব্যথা উপশম হয়। ব্যথা উপশমক ওষুধ ব্যথা থাকা অবস্থায় এবং মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ দেয়া যেতে পারে। সব ক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক নিয়মে ওষুধ খেতে হবে।

ফিজিক্যাল থেরাপিঃ 

ক) বিভিন্ন প্রকার তাপ এ রোগে চিকিৎসকরা প্রয়োগ করে থাকেন। যেমন­ ডিপ হিট সুপারফিসিয়াল হিট রোগীর কোন অবস্থায় কোন ধরনের থেরাপি প্রয়োগ করতে হবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ধারণ করে দেন।
খ) লাম্বার ট্রাকশনঃ লাম্বার ট্রাকশনে সাধারণত ২৫-৫০ পাউন্ড ওজন দেয়া হয়। তবে রোগীর অবস্থা, ওজন, বয়স ও পুরুষ/মহিলা ভেদে ওজন কম-বেশি হয়। লাম্বার ট্রাকশন বিশেষ সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের (ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ অনুযায়ী দেয়া উচিত।
গ) লোকাল স্পাইনাল সাপোর্টঃ কোমরের ব্যথায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা লোকাল স্পাইনাল সাপোর্ট হিসেবে কোমরের বেল্ট বা করসেট ব্যবহার করতে উপদেশ দিয়ে থাকেন। লাম্বোসেকরাল করসেট শুধু চলাফেরা ও কাজের সময় ব্যবহার করা উচিত।
ঘ) ইলেকট্রোথেরাপিঃ ইলেকট্রোথেরাপি হিসেবে ট্রান্সকিউটেনাস ইলেকট্রিক নার্ভ স্টিমুলেশন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে রোগীর অবস্থা ও প্রকারভেদে চিকিৎসকরা এসব চিকিৎসা প্রয়োগের উপদেশ দিয়ে থাকেন।

ব্যায়ামঃ 
কোমরে ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম দেয়া হয়। এ ধরনের ব্যায়াম রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে দিয়ে থাকেন।
ক) ব্যায়াম মাংসপেশির স্পাজম বা কামড়ানো কমিয়ে দিয়ে ব্যথামুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
খ) এ ব্যায়াম বিভিন্ন মাংসপেশির দুর্বলতা দূর করে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
গ) এই ব্যায়াম মাংসপেশির শক্ত ভাব দূর করে সাধারণ শিথিল ভাব আনতে সাহায্য করে।
ঘ) এ ব্যায়াম বিভিন্ন মাংসপেশির মধ্যে সমতা এবং নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ঙ) এ ধরনের ব্যায়াম মাংসপেশির সাধারণ চরিত্র ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে এ চিকিৎসা সর্বদা একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নেয়া উচিত।

কোমরের ব্যথা রোগীর জন্য কিছু পরামর্শঃ কাজ করার সময় করসেট ব্যবহার করুন।
সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাবেন।
কোনো জিনিস তোলার সময় সোজা হয়ে বসে তুলবেন।
চেয়ারে বসার সময় ঘাড় ও পিঠ সোজা রেখে বসবেন।
ফোমের বিছানায় ঘুমাবেন না এবং ফোমের (নরম সোফা) সোফায় অনেক্ষণ বসবেন না।
একই সাথে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকবেন না।
ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।
ভারী কোনো জিনিস, যেমন­ বেশি ওজনের থলি, পানিভর্তি বালতি ইত্যাদি বহন করবেন না।
পিঁড়িতে বসে কোনো কাজ যেমন­ মাছ কাটা, শাকসবজি কাটা ইত্যাদি করবেন না।
টিউবওয়েল চেপে পানি উঠাবেন না।
ঝরনায় অথবা সোজা হয়ে বসে তোলা পানি দিয়ে গোসল করবেন।
সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধীরে ধীরে উঠবেন ও নামবেন।
হাই হিল জুতা ব্যবহার পরিহার করুন।
মোটা ব্যক্তিদের শরীরের ওজন কমাতে হবে।
যানবাহনে চড়ার সময় সামনের আসনে বসবেন, কখনো দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
ঘুম থেকে ওঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে উঠবেন।

ডিম নিয়ে কিছু কথা


ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। সুস্বাদুও বটে। খাওয়া হয় হরেক রকম ভাবে। যে ভাবেই খাওয়া হোক না কেন, আমরা ডিম থেকে পাই উৎকৃষ্ট মানের-মায়ের দুধের পরেই এর স্থান। সকল এমাইনো এসিডই আছে এই প্রোটিনে। এই প্রোটিনের প্রায় শতভাগই শরীরের কাজে লাগে। উল্লেখ্য যে, দুধের প্রোটিনের প্রায় ৮৫ শতাংশ, মাছের ৭৬ শতাংশ, মাংসের ৭৪ শতাংশ আর সীমের প্রায় ৫৮ শতাংশ শরীরের কাজে লাগে। তবে ডিমের এই প্রোটিনই আবার এলার্জিরও কারণ, বিশেষ করে শিশুদের। ডিমের সাদা অংশের ওভালবুমিন, ওভোমিউকয়েড, ওভোট্রান্সফেরিন এবং লাইসোজাইম নামক প্রোটিনই এলার্জির জন্য বেশি দায়ি। আর ওভালবুমিন একাই দায়ি শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। এই এলার্জির জন্য পাতলা পায়খানা, বমি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চুলকানি, ত্বকে চাকা চাকা হওয়া, একজিমা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদেরকে প্রথম প্রথম কুসুম দিয়ে শুরু করাই ভাল।
ডিমের কুসুমে থাকে ফ্যাট, ভিটামিন এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণ। মুরগির ডিমের চাইতে হাঁসের ডিম আকারে বড় এবং তাতে ফ্যাটের পরিমাণ একটু বেশি। এই ফ্যাটের প্রায় ২৭ শতাংশই স্যাচুরেটেড ফ্যাট। প্রতি ডিমে আছে প্রায় ২৫০ মিগ্রা• কলেস্টেরল। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের কুসুম এল ডি এল কলেস্টেরল পরিমাণ বেশি, তাদের কুসুম খাওয়া উচিত কম। তবে গবেষণায় এ ও দেখা গেছে যে, যাদের রক্তের কলেষ্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক, দৈনিক দুইটা ডিম খেলেও তাদের রক্তের কলেস্টেরল তেমনটা বাড়ে না। হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়ে না তাদের। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে, সুষম খাবারের অংশ হিসেবে সপ্তাহে চারটা ডিমের কুসুমও খাওয়া যেতে পারে। তবে বেশি ডিম খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আবার প্রতিদিন ডিম খেলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ডিমের কুসুমে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন ই। এ ছাড়াও আছে বিভিন্ন খনিজ লবণ। যেমন, লৌহ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক ইত্যাদি। ডিমে কার্বোহাইড্রেট নাই। নাই ভিটামিন সি। একটা ডিম থেকে শক্তি পাওয়া যায় প্রায় ৭০ থেকে ৯০ ক্যালরি।
ডিমের খোসা শক্ত আবরণ, রোগ জীবাণু ভেতরে যেতে দেয় না। তবে খোসায় লেগে থাকতে পারে মুরগি বা হাঁসের মল এবং মলের ‘সালমোনেলা’ নামক জীবাণু। আর খোসাটা যদি ফাটা কিংবা ভাংগা থাকে, তবে এই জীবাণু ডিমের ভেতরে চলে যেতে পারে। হতে পারে ‘সালমোনেলোসিস’। তাই খোসা ফাটা কিংবা ভাংগা থাকলে সে ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

কম ঘুমানো ক্ষতিকর

রাতজাগা এখন ক্রেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ রাত জেগে প্রেমিকের সঙ্গে চুটিয়ে গল্প করে। কেউ রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। আবার কেউ গভীর রাতে পার্টির আমোদে মেতে সারা রাত পার করে। 

তবে যারা রাতে সাধারণত না ঘুমিয়ে অন্য কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন তারা এবার হুশিয়ার হয়ে যান। কারণ, গবেষণা বলছে, রাতে না ঘুমানোর ফলে আপনার স্বাস্থ্য ভীষণভাবে প্রভাবিত হবে। মেটাবলিক ডিজিজ ছাড়া রাতে না ঘুমানোর ফলে আপনার ওজনও বেড়ে যেতে পারে। অর্থাত্ আপনি হঠাত্ করে মোটা হয়ে যেতে পারেন। 

কিছুদিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা গবেষণা করেছিলেন। তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে যা উঠে এসেছে তা হলো কম ঘুমানো যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ, সে রকম অত্যধিক ঘুমানোর ফলেও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। গবেষকদের মতে প্রতিদিন রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। এই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেই আপনি নিজের বিপদ ডেকে আনবেন।

পুরুষ কি বেশী শক্তিশালী


উত্তরঃ নারী-পুরুষের শারীরিক এবং প্রবৃত্তিগত প্রভেদের মূলে আছে নারী ও পুরুষের যৌন হরমোন। নারীদের যৌন হরমোনের নাম ইস্ট্রোজেন ও প্রাজেস্টেরন এবং পুরুষের যৌন হরমোনের নাম এন্ড্রোজেন। পুরুষ এবং নারী উভয়ের শরীরেই (রক্তে) ইস্ট্রোজেন এবং এন্ড্রোজেন বর্তমান। পুরুষদের ক্ষেত্রে এন্ড্রোজেনের পরিমাণ ইস্ট্রোজেনের তুলনায় অনেকগুণ বেশি এবং নারীদের বেলায় ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ এন্ড্রোজেনের তুলনায় অকেন বেশি থাকে স্বাভাবিক অবস্থায়। কয়েক ধরনের অসুখে (অথবা ওষুধ ব্যবহারের ফলে) এই পরিমাণ (অনুপাত) কমে-বেড়ে যেতে পারে অর্থাৎ পুরুষদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে অথবা নারীদের শরীরে এন্ড্রোজেনের আধিক্য হতে পারে। এই অবস্থায় পুরুষদের বেলায় নারীদেহের লক্ষণসমূহ এবং নারীদেহে পুরুষালী লক্ষণসমূহ দেখা দিতে পারে।
ইস্ট্রোজেন বা এন্ড্রোজেনের প্রধান ভূমিকা হলো যৌনজীবনকে প্রভাবিত এবং নিয়ন্ত্রণ করা। তাছাড়া এরা শরীরের কোষকলার (বিশেষ করে মাংসপেশী এবং হাড়) বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। এই ক্ষমতাকে এনাবোলিক গুণ বলা হয়। এন্ড্রোজেনের (প্রধানত টেস্টোস্টেরন)-এর এনাবোলিক গুণ ইস্ট্রোজেনের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণে সাধারণত নারীদেহের তুলনায় পুরুষের দেহের কাঠামো (হাড়) বেশি বড়সড় এবং পেশীবহুল হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পেশীর গড়নের সঙ্গে শক্তির সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। পেশীবহুল নারীর তুলনায় অল্প পেশীযুক্ত পুরুষ বেশি শক্তিশালী হবে, শুধু সে পুরুষ বলে-এ রকম ধারণা করা ঠিক হবে না। সারা বিশ্বের মহিলা ক্রীড়াবিদ বা জিমন্যাস্টদের দৃষ্টান্ততো আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে।

অতিরিক্ত চিনি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

অতিরিক্ত চিনি শুধু মানুষের শরীরকে মুটিয়েই দেয় না, এর ফলে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকিটাও বেড়ে যায় বহুগুণে। অতিরিক্ত চিনি খেলে মুটিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরও বেশ কিছু রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে শরীরে। এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটাই থাকে সবচেয়ে বেশি। মিষ্টি কোমল পানীয়তেও চিনি থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস রোগের জন্যও কিন্তু অনেকাংশেই দায়ী এই অতিরিক্ত মিষ্টি। আমেরিকার একদল গবেষক মানব শরীরে চিনির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করে সম্প্রতি এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে। গবেষণায় বলা হয়, বিশেষ করে মহিলাদের দিনে চিনিযুক্ত খাবার ১০০ ক্যালোরি অথবা ছয় চা চমচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। পুরুষের বেলায় এই পরিমাণটা ১৫০ ক্যালোরি বা নয় চা চামচ। এই অতিরিক্ত চিনি হৃদযন্ত্রের রোগ তৈরিসহ উচ্চ রক্তচাপ এমনকি স্ট্রোকও ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শরীরে যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যায়, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারও শরীরে একই রকম প্রভাব ফেলে। আর শরীরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব এড়াতে প্রয়োজন একটু বাড়তি সচেতনতা। এই সচেতনতা আর পরিমিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই আপনি আপনার শরীরকে রাখতে পারেন রোগ ও ঝামেলা মুক্ত। 

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন


দূর ছাই! কিচ্ছু মনে থাকে না। স্মৃতিশক্তিটা কি কমে গেল? নিজেদের প্রতি এ জাতীয় অভিযোগ আমরা হরহামেশাই করে থাকি। আর বয়স হলে আরও বেশি করি। আবার অনেকেই আছেন যারা সুস্থ তীক্ষষ্ট মস্তিষ্ক নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। শেষ দিনটি পর্যন্ত মেধা আর অটুট স্মৃতিশক্তি বলে কাজ করে যান মানুষের জন্য। কী করে সম্ভব হয়? তীক্ষষ্ট মেধা, অটুট স্মরণশক্তি মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য হলেও এগুলো অক্ষুণ্ন রাখাও মানুষেরই কাজ।
স্মৃতিশক্তি কমে কেন মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা কমে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। কমে যায় চিন্তা করার স্বাভাবিক ক্ষমতা। দেহের কোষগুলোতে শক্তি উত্পাদনের জন্য প্রতিনিয়ত সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এসব জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোষগুলোতে কিছু ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। এ যৌগগুলো কোষের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এবং এক পর্যায়ে কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। ফলে আমরা বার্ধক্যের পথে এগিয়ে যাই। একই ব্যাপার মস্তিষ্কের কোষগুলোতেও ঘটে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষগুলোও বুড়িয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক ক্ষমতা। আমাদের স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। এছাড়া কোন কারণে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যায়। হৃিপণ্ড থেকে শতকরা ২০ ভাগ রক্ত সরাসরি মস্তিষ্কে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো কারণে ধমনীর প্রাচীর সরু হয়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। দেখা গেছে, যারা হৃদরোগী তারা সাধারণত ভুলোমনা হয়ে থাকে। একই কারণে স্ট্রোক করলে মানুষের স্মরণশক্তি এবং চিন্তাশক্তিও দারুণভাবে কমে যায়।
আর দুশ্চিন্তা নয়
দুশ্চিন্তা বা টেনশনে মানুষের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে গ্লুকোকরটিকয়েড নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মস্তিষ্কের কোষগুলোকে দ্রুত আক্রান্ত করে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। সুস্থ মস্তিষ্ক আর শাণিত মেধা নিয়ে বেঁচে থাকুন দীর্ঘ দিন।
ইতিবাচক চিন্তা করুন
নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। সন্দেহবাতিক মন মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। মনের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগটা খুব গভীর। তাই মনের পরিচর্যা করুন। নিজেকে নিয়োজিত রাখুন সৃষ্টিশীল কাজে।
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করুন ক্রোধ বা রাগ মন ও মস্তিষ্কের শত্রু। আমরা যখন রেগে যাই তখন শরীরে নিঃসৃত হয় বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
মেডিটেশন করুননিয়ম করে দিনের কিছু সময় মেডিটেশন করুন। যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। সম্ভব না হলে অন্তত সকাল-সন্ধ্যা খোলা ময়দানে হাঁটুন। এ অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। স্মরণশক্তি মূলত নির্ভর করে আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতার ওপর। মেডিটেশন আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিনসারাক্ষণ কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তোলে। ক্লান্তি মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত ঘণ্টা ঘুমান। দীর্ঘ কাজের ফাঁকে একটু ব্রেক দিন। কাজে মনোনিবেশ করা সহজ হবে।
বুঝেশুনে খাবার খান
বুঝেশুনে খাবার খেলে যদি ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, হৃদযন্ত্র সচল রাখা যায় তাহলে মগজকে কেন শাণিত করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। চাই খাদ্য সচেতনতা। এ ব্যাপারে প্রথম পরামর্শ হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতিকর জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উত্পন্ন ক্ষতিকর যৌগগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। ফলে কোষগুলো থাকে কর্মক্ষম আর তারুণ্যদীপ্ত। তাছাড়া অ্যান্টঅক্সিডেন্ট শিরা-ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে হৃিপণ্ড সচল, মগজটাও টনটনে। প্রাণীজ আমিষ খেয়ে শরীরে হিমোসিস্টিন নামক এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড উত্পন্ন হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ হিমোসিস্টিন উত্পাদনের প্রক্রিয়াও বেড়ে যায়। এ হিমোসিস্টিন ধমনীর প্রাচীরে জমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই মাছ-মাংস পরিমিত খাওয়াই সঙ্গত। তাহলে কী খাবেন? আগেই বলা হয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো খাবার। মূলত ভিটামিন-ই এবং সি হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন। দুধ, কলিজা, সয়াবিন, সবুজ শাক-সবজি, ফলমূলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। সমপ্রতি পশ্চিমা গবেষকরা নির্দিষ্ট কিছু খাবারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন। এগুলো হলো পালং শাক, ব্লুবেরি এবং স্ট্রবেরি। সয়াবিন আর রসুনের প্রতিও তারা আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের যুক্তিটা হলো রসুন-সয়াবিন রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল সুষ্ঠু হয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোও সচল থাকে। বিজ্ঞানীরা ফলিক এসিডসহ ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্যান্য ভিটামিনের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন একই কারণে। বিশেষ করে হিমোসিস্টিন দূর করতে ভিটামিন বি-১২ এর জুড়ি নেই।

মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মস্তিষ্ক, যা তাকে আর সব প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ করে রেখেছে। মস্তিষ্কের তাই যত্ন নেয়া চাই। মেধা, মনন, বুদ্ধি—এসবই হলো সুস্থ মস্তিষ্কের ফসল। সঠিক চিন্তা, সুস্থ জীবনাচরণ, সুষম খাবার—এ হলো সুস্থ মস্তিষ্কের মূলমন্ত্র।

**************************
ডাঃ গোলজার হোসেন উজ্জ্বল,
চিকিত্সক ও স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

গরমে কোমল পানীয় ক্ষতিকর?


আজকাল কোথাও বেড়াতে কিংবা পার্টিতে গেলে যেন কোমল পানীয় ছাড়া চলেই না। কি বন্ধুর আড্ডা, পার্টি, পিকনিক সবখানে কোমল পানীয়ের ছড়াছড়ি, আর বাচ্চাদের অনুষ্ঠানগুলোতে এছাড়া ভাবাই যায় না। প্রচন্ত গরমে একটু তৃষ্ণা মেটাতে চাই এক চুমুক কুল ঠাণ্ডা পানীয়। আর আজকাল কোম্পানীগুলোও বিভিন্ন রঙ্গে, ঢঙ্গে তৈরি করছে বিভিন্ন পানীয়। আবার দেখা যায়, কাঁচামাল একই শুধুমাত্র একটু রং অথবা ফ্লেভার পাল্টিয়ে অন্যনামে মার্কেটে ছেড়ে দিচ্ছে একই পণ্য। এ যেন নতুন বোতলে পুরনো শিরকা। তারপরও বিশ্বজুড়ে আজ কোমল পানীয়ের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে ব্যাপকতা লাভ করছে।
কোমল পানীয়ের উৎপাদন ও ব্যবহার অনেক পূর্বে শুরু হলেও আজ অবধি এর ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে গবেষণার পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু গত একদশক থেকে এর ব্যবহার প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পুষ্টি বিজ্ঞানী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য সংস্থা এবং ঘদম এর টনক নড়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, ৫০০ গ্রামের কৌটাগুলো কার্বন, ১৭০ ক্যালরি সোডা এবং ১৫ চা চামচ চিনি ব্যবহার করে থাকে। যা শিশুর শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষণ্নতা সৃষ্টি করছে তরুণদের মনে। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে ১/২টা কোমল পানীয় গ্রহণ করার ফলে নিম্নোক্ত রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তা হল বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, দাঁতের ক্ষয়রোগ। ইনসুলিনের আবিষ্কারক ডাঃ চার্লস বেস্ট এর মতে, ‘যে সকল লোক অত্যধিক কোমল পানীয় গ্রহণ করে থাকে তাদেরও লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সমপরিমাণ যারা দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ করে থাকে। আর সিরোসিসের একমাত্র চিকিৎসা হল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট’। এছাড়া আধুনিক বিভিন্ন কোম্পানীর পানীয়ের মধ্যে যে সকল উপাদান থাকে সেগুলো এবং তাদের প্রতিক্রিয়া হলঃ
এসিডের মাত্রাতিরিক্ততাাঃ কোমাল পানীয় অধিক যদ বহন করেও থাকে। যা পরিপাকতন্ত্রের খাদ্য হজমে বাধা সৃষ্টি করে। ফসফরাসের অভাবঃ অতিরিক্ত ফসফরাস স্টোমাকের হাইড্রলিক এসিডের সাথে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে ও পেট ফাঁপা ভাব সৃষ্টি করে।
ক্যাফেইনের অত্যধিকতাঃ কোমল পানিতে ক্যাফেইন ব্যবহারের ফলে তা গ্রহণকারীর উদ্বিগ্নতা, নার্ভাসনেস এবং সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা দেখা দেয়।
শরীরে অক্সিজেনের হ্রাস পাওয়াঃ ডাঃ ফ্রান্সিসকো কন্টারাইজ নামক আমেরিকার একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বলেন, ক্যান্সার হল একটি বৃক্ষের ন্যায় আর অক্সিজেনবিহীন টিস্যু সেল হল এর পৃষ্ঠপোষক। তাই অত্যধিক কোমল পানীয় গ্রহণের ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। যার ফলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
দাঁতের ক্ষয়রোগ সৃষ্টিতেঃ কোমল পানীয় দাঁতের ক্ষয় রোগ সৃষ্টি করে। মাঁঢ়িকে দুর্বল করে তোলে। এর প্রভাবে ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয় রোগ দেখা দেয়।
আজকাল রাস্তাঘাটে ফুটপাতে ফেরি করে ও ঠাণ্ডা কোমল পানীয় চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। অনেক সময় সপরিবারে বাচ্চা নিয়ে বেড়াতে গেলে প্রিয় সন্তানের চাপাচাপিতে বাচ্চাকে একটি কোমল পানীয় কিনে দিচ্ছেন মাতা-পিতা। কিন্তু এর সাথে দিয়ে দিচ্ছেন একটি নীরব ঘাতক ব্যাধির সম্ভাবনা। তাই এই গরমে কোমল পানীয় গ্রহণে সবাইকে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে পানিশূন্যতার জন্য নেয়া যেতে পারে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর গস্নুকোজ যুক্ত স্যালাইন। যা শরীরের লবণ-পানি হ্রাসের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। দিতে পারে বাড়তি কর্মচঞ্চলতা।

হাসপাতালে মোবাইল ফোন ব্যবহার ক্ষতিকর


মোবাইল ফোন বর্তমানে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এটি ছাড়া অনেকেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা মনে করেন। কিন্তু এর তরঙ্গ প্রবাহ স্বাস্থ্যের জন্যে কতটা হুমকি তা এখনো বিতর্কিত বিষয়।
হল্যান্ডের একদল গবেষক দাবি করেছেন হাসপাতাল বেড বা গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল সরঞ্জামাদির পাশে মোবাইল ফোন ব্যবহার মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি পেসমেকারের কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে ও ভেন্টিলেটর বন্ধ করে দিতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব আমস্টার্ডাম-এর ঐ গবেষকরা মোবাইল ফোনের দ্বারা সৃষ্ট ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেস-এর অন্তত ৫০টি দৃষ্টান্ত দেখতে পেয়েছেন যার ৭৫ শতাংশই তারা ক্ষতিকর হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করেছেন।
বায়োমেড সেন্ট্রাল-এর অনলাইন বা ইন্টারনেট সাময়িকী ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ এর গবেষকরা হাসপাতালে আগতদের রোগীর শয্যা ও মেডিক্যাল সরঞ্জামাদির কাছাকাছি মোবাইল ফোন না নেয়ার আহবান জানান। তারা বলেন, বেতার তরঙ্গের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেস মেডিক্যাল সরঞ্জামাদির ক্ষতি করতে পারে যখন মোবাইল ফোন এগুলোর ৩ সেন্টিমিটার কাছে নেয়া হয়।
গবেষকরা ৬১টি মেডিক্যাল সরঞ্জামাদির ওপর পরীক্ষা করে দেখেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিপিআরএস সিগনালই (যা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়) উল্লেখিত ক্ষতির জন্য দায়ী।
ওয়েবসাইট অবলম্বনে

ভাত খাওয়ার পর যে পাঁচটি কাজ করবেন না ...

ভাত খাওয়ার পর যে পাঁচটি কাজ করবেন না ...

পৃথিবীতে অন্তত তিনশ কোটি মানুষের প্রধান খাবার ভাত ৷চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যরক্ষায় ভাত খাবার পর পাঁচটি কাজ করতে অনুৎসাহিত করেন। এগুলো হলো:

১. ভাত খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা ১/২ ঘণ্টা পর ফল খাবেন। কেননা, ভাত খাওয়ার পরপর কোনো ফল খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

২. সারাদিনে অনেকগুলো সিগারেট খেলে যতখানি ক্ষতি হয়, ভাত খাওয়ার পর একটি সিগারেট বা বিড়ি তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি করে। তাই ধূমপান করবেন না।

৩. চায়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ টেনিক এসিড থাকে যা খাদ্যের প্রোটিনের পরিমাণকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে। তাই ভাত খাওয়ার পর চা খাবেন না।

৪. বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করবেন না। খাবার পরপরই বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করলে অতি সহজেই ইন্টেস্টাইন (পাকস্থলি) থেকে রেক্টাম (মলদ্বার) পর্যন্ত খাদ্যনালীর নিম্নাংশ বেঁকে যেতে পারে, পেঁচিয়ে যেতে পারে অথবা ব্লকও হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের সমস্যাকে ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন বলা হয়। কেউ বেশি খেতে চাইলে আগে থেকেই কোমরের বাধন ঢিলা করে নিতে পারেন।

৫. গোসল করবেন না। ভাত খাওয়ার পরপরই গোসল করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পাকস্থলির চারপাশের রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে যা পরিপাক তন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলবে, ফলে খাদ্য হজম হতে সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী লাগবে।

পিত্তথলির পাথর

পিত্তথলি বা গলব্লাডার লিভারের সাথে সংশ্লিষ্ট পিত্তরস সম্পর্কিত তন্ত্রের একটি অঙ্গ। দেখতে একটি ছোট্ট থলির মতো। লিভারের ডান দিকের অংশের ঠিক নিচে এর অবস্থান। গলব্লাডার তার নিজস্ব নালী বা সিস্টিকডারেক্টর মাধ্যমে মূল পিত্তনালী বা বাইলডাক্টের সাথে সংযুক্ত। 

লিভার থেকে নির্গত বাইল বা পিত্ত সাময়িকভাবে পিত্তথলিতে জমা থাকে। হজম ক্রিয়ার প্রয়োজনমতো পিত্তথলির পিত্ত আবার পিত্তনালীর মাধ্যমে খাদ্যনালীতে নির্গত হয়। গলব্লাডার পিত্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং ইলেক্ট্রোলাইটসের পরিবর্তন করে। এই পিত্ত আমাদের হজমসহ খাদ্যনালীর অন্যান্য কাজে সহায়তা করে থাকে। গলব্লাডারের সাধারণ কয়েকটি অসুখের মধ্যে গলব্লাডারের পাথর অন্যতম। শরীরের যেসব অঙ্গের সাথে বিভিন্ন রসের প্রস্তুত এবং নির্গমের সম্পর্ক রয়েছে সেসব অঙ্গে যেকোনো সময় পাথরের সৃষ্টি হতে পারে, গলব্লাডার বা পিত্তথলি সে ধরনের অঙ্গের একটি। 

গলব্লাডার পাথরের কারণ 
গলব্লাডারে পাথরের সঠিক কারণ জানা না গেলেও অনেক অবস্থা বা বিষয়কে এর জন্য দায়ী বলে বিচেনা করা হয়। সেই বিষয়গুলো হচ্ছে­ 

ক) গলব্লাডারে অতিরিক্ত সময় পিত্ত জমে থাকা (Biliary stasis) গলব্লাডার বা পিত্তথলির পাথর সৃষ্টির জন্য বহুলাংশে দায়ী। গলব্লাডারের ছোট নালী, পেঁচানো সিস্টিক ডাক্ট, অস্বাভাবিক ভাল্ব, গলব্লাডারের অস্বাভাবিক অবস্থান, পিত্ততন্ত্রের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ, ঘন ঘন গর্ভাবস্থা ইত্যাদি কারণে গলব্লাডারে পিত্ত দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে। 

খ) গলব্লাডারের ইনফেকশন অনেক ক্ষেত্রে দায়ী পিত্তথলির পাথরের জন্য। লিভার, পিত্তনালী, খাদ্যনালীর যেকোনো ব্যাক্টেরিয়া অতি সহজে পিত্তথলিতে আসতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া পাথর সৃষ্টির একটি কেন্দ্রবন্দিু হিসেবে কাজ করে এক বা একাধিক পাথরের সৃষ্টি করতে পারে। 

গ) পিত্তরসের রাসায়নিক পরিবর্তনঃ পিত্তরস বা বাইলের মধ্যে বাইলসল্ট ও কোলেস্টেরল নির্দিষ্ট একটি পরিমাণে থাকে। এই পরিমাণের পরিবর্তন হলেও পাথর হতে পারে। 

গলব্লাডারে পাথরের উপসর্গ পেটের ডান দিকের ওপরিভাগে তীব্র ব্যথা, ওই ব্যথা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে ডান কাঁধ পর্যন্ত আসতে পারে। এই ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয়ে কিছুক্ষণ পরে কমেও যেতে পারে অথবা সব সময় অল্প ব্যথা অনুভব হতে পারে। বদহজম বা বমি বমিভাব হতে পারে। সাধারণত অল্প জ্বর হয়ে থাকে। বেশি জ্বর হলে মনে করতে হবে গলব্লাডারে পুঁজের সৃষ্টি হতে পারে, যাকে এম্পায়েমা গলব্লাডার বলা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই গলব্লাডারের পাথর উপসর্গবিহীন থাকতে পারে। 

পেটের অন্য কোনো উপসর্গ বা রোগ নির্ণয়ের জন্য আলট্রাসাউন্ড করলে তাতে গলব্লাডারে পাথর নির্ণয় করা যায়। 

রোগ নির্ণয় শারীরিক পরীক্ষার সময় পেটের ডান দিকের ওপরিভাগে রোগী ব্যথা অনুভব করতে পারে। গলব্লাডার ফুলে গেলে তা উদর পরীক্ষার সময় হাতেও লাগতে পারে। কোনো কোনো সময় গলব্লাডার অন্যান্য অঙ্গের সাথে জড়িয়ে পেটের ডান দিকে একটা চাকার সৃষ্টি করতে পারে। আবার কোনো সময় অল্প জন্ডিসও হতে পারে। 
পেটের আলট্রাসনোগ্রাম একটি সহজ পরীক্ষা, যার মাধ্যমে গলব্লাডারের পাথরের অবস্থান, গলব্লাডারের দেয়ালের অবস্থা, গলব্লাডারের পুঁজ, কোনো চাকা এবং টিউমার, পলিপ ইত্যাদি অতি সহজে নিরূপণ করা যায়। সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেও গলব্লাডারের ইনফেকশন হয়েছে কি না বোঝা যায়। 

গলব্লাডারে পাথরের চিকিৎসা গলব্লাডারের পাথর থেকে উপসর্গ দেখা দেয়ার সময় থেকেই তার সঠিক চিকিৎসা করতে হয়। পাথরসহ গলব্লাডার ফেলে দেয়ার অপারেশন বা কলিসিসটেকটমি করতে হয়। এই অপারেশন সাধারণত দুইভাবে করা যায়­ 

(১) ল্যাপারোস্কপিক কলিসিসটেকটমিঃ প্রথাগত পদ্ধতির মতো পেট না কেটে ল্যাপারোস্কপের মাধ্যমে গলব্লাডারসহ পাথর বের করা হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতিই বেশি পছন্দনীয়। রোগী সাধারণত অপারেশনের দ্বিতীয় দিনই বাড়ি চলে যেতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে পারেন। 

(২) ওপেন কলিসিসটেকটমিঃ পিত্তথলির অবস্থা জটিল আকার ধারণ করলে, চাকার সৃষ্টি হয়, গলব্লাডারে অত্যধিক পুঁজ বা পচে গিয়ে গ্যাংরিনের সৃষ্টি হলে অপারেশনের মাধ্যমে গলব্লাডারসহ পাথর অপসারণ করতে হয়। পাথরসহ গলব্লাডার অপসারণের পর গলব্লাডারের হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে­ এতে ইনফেকশন ছাড়া অন্য কোনো অসুখ বা ক্যান্সার আছে কি না। মনে রাখতে হবে, গলব্লাডারের ক্যান্সারের প্রায় ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে পাথর থাকে।